Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

ভাদ্র ১৮ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছেন: প্রধানমন্ত্রী

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫১, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৫:৫১, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছেন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরআগে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার দপ্তর থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি। দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উস্কে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। দেশে কোনো রকমের সাম্প্রদায়িক উস্কানি কিংবা বিদ্বেষ যেন আমাদের সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে আমি সজাগ দৃষ্টি রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’দক্ষিণ এশীয় কালচারাল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ। সনাতন ধর্মমতে, হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর এবং দুষ্টপ্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর ‘কংসে’র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন-ই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।’’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘‘বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দলমত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ‘কংস’রুপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।’’


তিনি আরও বলেন, ‘‘ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা। একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ‘ইউরোপ’ কিংবা ‘আমেরিকা’ সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যালঘু’। সুতরাং, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’— এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।’’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু’’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশি ভাবি। রাষ্ট্র এবং সমাজে দল মত ধর্ম বর্ণ পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে করতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশি’।’’রাজনৈতিক আপডেট ও খবর পর্যালোচনা করা


তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ একে ওপরের সঙ্গে মিলেমিশে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম এবং সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভেদ বিরোধ সৃষ্টি জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজ বিরোধী অপশক্তি আর যাতে মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সকলকে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখা নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব।’’


তারেক রহমান বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।’’

Walton
Walton