Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬

দিল্লি থেকে হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশাবাদ

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০১, ১০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৮:০১, ১০ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্ট:

দিল্লি থেকে হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশাবাদ

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লি থেকে বক্তব্য দেয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ভারতকে নিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে ঢাকা। ভারতের সঙ্গে আলোচনার পর এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দুঃখ প্রকাশের নয়। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী, আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগ।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা, তার জায়গা হচ্ছে জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটা কম্পিটেন্ট কোর্ট তার বিচার করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে।দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ তারিখে হাসিনা যে কাজটি করেছে, সেটা বাংলাদেশের জুডিশিয়ারির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। আর এই কাজটি ভারত সরকার তাকে করতে দিয়েছে।তিনি বলেন, আমরা চাই সারা বিশ্বের সকল দেশ আমাদের রাষ্ট্রের পুরো কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।

ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রত্যাশা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব আমাদের এই বিষয়টি ভারত সরকার অনুধাবন করবে। আমার ধারণা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, আশা করব যে আমাদের রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে আন্ডারমাইন করার মতো কিছু তারা আর করবেন না। এটা আমাদের প্রত্যাশা এবং আমি মনে করি তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। এ সময় ত্রিবেদী বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহের তার অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও উঠে আসে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়ে বিষয়টি উঠে এসেছে এবং আমরা ভারতকে এই প্রত্যর্পণ প্রসেস ত্বরান্বিত করতে বলেছি। আমরা আশা করি ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

এ ছাড়া শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো তাদের দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্যও ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Walton
Walton