Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ শ্রাবণ ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ৬:০২ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সাংবাদিক বালু হত্যার ১৫ বছর : বিস্ফোরক অংশের বিচার কার্যক্রম শুরু


২৬ জুন ২০১৯ বুধবার, ০৫:৪৭  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, খুলনা

বহুমাত্রিক.কম


সাংবাদিক বালু হত্যার ১৫ বছর : বিস্ফোরক অংশের বিচার কার্যক্রম শুরু

খুলনা : দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদক একুশে পদকে ভূষিত শহীদ হুমায়ূন কবীর বালু হত্যাকান্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার দায়ের হয়। এর একটি হত্যা অপরটি বিস্ফোরক আইনে।

হত্যার অংশের বিচার শেষ হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনও বিচার শেষ হয়নি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটির ২০০৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বিচার শেষ হয়। খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে এতে সকল আসামী খালাস পেয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১১ বছর।

দীর্ঘদিনে বিস্ফোরক অংশের দায়ের করা মামলটি বার বার তদন্ত হয়েছে। ইতোপূর্বে দেয়া চার্জশীট পুন:তদন্ত ( অধিকতর তদন্ত) করে সিআইডি ( ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন) আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। গত ২২ মে খুলনার জননিরাপত্তবা বিঘœকারী দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়অ শুরু হয়েছে। বালুর বিচার প্রত্যাশী পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীরা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজন হারানোর ক্ষত। দীর্ঘ সময়েও এ হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বৃহস্পতিবার হত্যাকান্ডের ১৫তম বার্ষিকী। ১৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে শহীদের পরিবার, দৈনিক জন্মভূমি ও রাজপথের দাবী পত্রিকা, খুলনা প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠণ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

২০০৪ সালের ২৭ জুন সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু বোমা হামলায় খুন হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটির একটি অংশ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালিন বিচারক খুলনা জেলা ও দায়রা জজ মো: আ: সালাম সিকদার ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সবাইকে খালাস দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। বিচারক রায়ে তাঁর মন্তব্যে বলেন, কোনো সাক্ষীই হত্যাকান্ড সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেননি। অনেক সাক্ষী সাক্ষ্য দেননি। আদালত থেকে সমন জারি করেও সাক্ষীদের আনা যায়নি। উপরন্তু তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল এবং যাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা সাক্ষী করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি বলেও আদালত অভিমত দেন।

দুর্বলতার ধরন বর্ণনা করতে গিয়ে আদালত বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলের মানচিত্র এঁকেছেন; কিন্তু আশপাশের স্থলের কাউকে সাক্ষী করেননি, এমনকি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। রায়ে বিচারক বলেছেন, ‘যা হোক, এ মামলার সব দিক পর্যালোচনা করে আমি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সারকামসটেনশিয়াল এভিডেন্স পাইনি, যাতে অকাট্যভাবে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়।’ ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়। রায়ে চার্জশীটভুক্ত ৭ আসামি বেকসুর খালাস পায়।

হত্যা মামলায় কেউই অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত এবং সাজা না পাওয়ায় সম্পাদক সাংবাদিক নেতা বালুর স্বজন ও সহকর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হন। মামলাটি আবারও তদন্তের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনামুল হক হত্যা মামলার দুর্বল দিকগুলো উল্লেখ করে বিস্ফোরক মামলাটি আরো তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানান। ২০ এপ্রিল আদালতের তৎকালিন বিচারক মোহাম্মদ সেকান্দার আলী আবেদনটি শুণানী শেষে বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য আদেশ দেন।

বিস্ফোরক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাইয়ুম শিকদার দায়িত্ব নেয়ার পর দাবি করেছিলেন যে প্রতিবেদনের যেসব দুর্বলতার কারণে আসামি খালাস পায় সেসব বিষয় বিবেচনায় এনে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। কিন্তু সাত বছর ধরে তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, তাতে হত্যার পরিকল্পনাকারী ও আর্থিক জোগানদাতাসহ বস্তুগত কোনো সাক্ষ্য বর্ণিত হয়নি। আসামি করা হয় চারজনকে। তাঁরা হচ্ছেন জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ, নজরুল ইসলাম, রিমন ও ইকবাল হোসেন স্বাধীন।

হত্যাকান্ডের পরদিন ( ২৮ জুন ২০০৪) খুলনা থানার তৎকালিন এসআই ( সাব- ইন্সপেক্টক) মারুফ আহমদ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক ধারায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা বদল শেষে হত্যা মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। অভিযোগ পত্রভুক্তদের মধ্যে চারজন বিডিআর আলতাফ, রিপন আহমেদ ওরফে সোয়েব, সুমন ওরফে শরিফুজ্জামান ও শ্যামল ওরফে দিদার ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ায় আদালত তাঁদের নাম বাদ দিয়ে সাতজনের নামে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা আওযামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিশিষ্ট আইনজীবী সাপ্তাহিক সত্যের সন্ধানে পক্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ফরিদ আহমেদ বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দুর্বল তন্তের কারণে সাংবাদিক বালু হত্যার সকল আসামী খালাস পেয়ে গেছে। ওই তদন্তে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অর্থের যোগানদাতা ও পরিকল্পনাকারীরা। তিনি বলেন হত্যাকান্ডের ঘটনা প্রমাণ না হওয়ায় আসামীরা খালাস পেয়ে যাওয়ায় এখন অপেক্ষা করতে হবে বিস্ফোরক অংশের বিচারের উপর। আমি সাংবাদিক বালু হত্যার সাথে যাতে যারাই জড়িত বিচারে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের সদ্য সাবেক পিপি ( পাবলিক প্রসিকিউটর) এনামুল হক এ প্রসঙ্গে আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট হতে না পেরে মামলাটির অপর অংশের ( বিস্ফোরক আইন) অধিকতর তন্তের তদন্ত দাবি করে আবেদন করি। আদঅলত আবেদন আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত রির্পোট সিএমএম কোর্টে জমা দিয়েছে। কিন্তু নথী এখনও বিচারিক আদালতে পৌছেনি। তাই বলতে পারছি না ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কি আছে।

খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বর্তমান পিপি অ্যাডভোকেট মো: আহাদুজ্জামান বলেন, আমি গত ১৯ জুন দায়িত্বগ্রহণ করেছি। আমার কাছে এখনও সাংবাদিক বালু হত্যা মামলা সংক্রান্ত কোন নথী আসেনি। এই মামলার তরিখ কবে সেটিও আমার জানা নেই। সাংবাদিক বালু হত্যার চাঞ্চল্যকর এই মামলার নথী কি অবস্থায় আছে সেটি খোজ নিব।

খুলনা ( সিএমএম) মহানগর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদঅলতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী কেএম ইকবাল হোসেন এ বিষয়ে জানান, সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে জননিরাপত্বা বিঘœকারী ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচার কাজ চলছে। গত ২২ মে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।