Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ আশ্বিন ১৪২৫, রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

রমজানে রোগীর খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম


১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০১:৩৫  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


রমজানে রোগীর খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম

ঢাকা : রমজান মাস কিন্তু চলেই আসলো। নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী চলা পরিবর্তিত এই আবহাওয়ার সময় রোগীদের সাওম পালন একটু কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে যারা আক্রান্ত, রোজা করার সময় তাদের কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। একটু সতর্ক থেকে কিছু নিয়ম মেনে চললেই এ ধরণের রোগীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পারেন।

রোজা করলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে তারা কোন কোন সময়ে ওষুধ খাবেন। এ জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া যেতে পারে।

রোগীদের লবণের ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। ইফতারে তাই বুঝে শুনে কম লবণাক্ত খাবার খেতে হবে। সেই সঙ্গে পানি পান করতে হবে বেশি করে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ঝুঁকি আছে। সাধারণত ডায়াবেটিসের রোগীদের সকালের ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ ইফতারে নিয়ে আসা হয় এবং রাতের ডোজ সাহরিতে গিয়ে অর্ধেক হয়ে যায়। তারপরও মাত্রা ও সময়সূচির পরিবর্তনের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। সাহরিতে পূর্ণাঙ্গ খাবার খেতে হবে। রোজার মাসেও মাঝে মাঝে বিকেলের দিকে এবং ইফতারের দুই ঘণ্টা পর রক্তের শর্করা পরীক্ষা করাটা জরুরি। কারও কারও ইফতারের পর শর্করা বেশি বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে একবারে বেশি না খেয়ে ভেঙে ভেঙে খেতে হবে।

হৃদরোগী, স্থূলতা বা রক্তে চর্বি যাদের বেশি, তারা যতটা সম্ভব ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার এড়াতে চেষ্টা করবেন। ইফতারের বেশির ভাগ খাবারই তেলে ভাজা। দিনের পর দিন এগুলো খাওয়া ক্ষতিকর।

এর চেয়ে বরং কাঁচা ছোলা, দই-চিড়া, দই বড়া, ফলের সালাদ, ঘুগনি, চটপটিজাতীয় তেলবিহীন খাবার খাওয়া ভালো। একই তেল পরদিন আবার ব্যবহার করবেন না। দরকার হলে এই মাসে একটু স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল ব্যবহার করতে পারেন।

রমজান মাসে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে ইফতার থেকে সাহরি অবধি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। রোজার মাসে সবজি কম খাওয়া হয় বলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

সবজি, কাঁচা সালাদ, ফলমূল খেলে সমস্যা কমবে। প্রয়োজনে শরবতের পরিবর্তে ইসবগুল খেতে পারেন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এড়াতে ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। ভরপেট খেয়েই শুয়ে পড়বেন না। সাহরি খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন বা বসে বই পড়ুন।

কিডনির রোগীরা অবশ্যই রোজার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। কারণ দীর্ঘ সময় পানি না পান করার ফলে তাদের ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইট বা রক্তে লবণের সমস্যাও হতে পারে।

রোজা রেখে দিনের বেলা হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম না করাই উচিত। ইফতারের পর ব্যায়ামের জন্য ভালো সময়।

সংগৃহীত 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।