ফাইল ছবি
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের দেয়া সেবার বিনিময়ে অর্থ পরিশোধের আইনে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।
হরমুজে জাহাজ চলাচলে ফি দিতে হবে, খসড়া অনুমোদন ইরানের
সোমবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশন একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের অনুমতিপ্রাপ্ত দেশগুলোর জাহাজগুলোকে তেহরান কর্তৃক প্রদত্ত পরিষেবার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে কৌশলগত পদক্ষেপ’ পরিকল্পনার তৃতীয় ধারা অনুমোদন করেছে কমিশন।
কমিশনের মুখপাত্র হাসান কাশকাভি জানান, সামুদ্রিক সেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বীমা, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সেবার জন্য ফি নেয়া হবে।তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিজস্ব নিয়ম ও পরিস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়ে ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি প্রণালির তীরবর্তী দেশগুলোর অধিকারও বিবেচনায় নিয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান এখন পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে টানাপোড়েনে চাপে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। তিনি জানান, বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্য ধরে রেখেই এ সংকট মোকাবিলা করতে চায় ইরান।
চলমান সংঘাতের মধ্যে ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি থেকে বের হতে জুনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারককেই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে দুই পক্ষের দূরত্ব কমেনি। পেজেশকিয়ান জানান, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানিও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞাকে পুরানো মার্কিন চাপ প্রয়োগের পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার দাবি, সামরিক হুমকির পর আবার নিষেধাজ্ঞায় ফেরা প্রমাণ করে ওয়াশিংটন সংকটের সমাধান খুঁজে পাচ্ছে না।




