ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৮মাস বন্ধ থাকার পর ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ত্রিপুরা রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের যাত্রীবাহী বাসটি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিন যাত্রী ও তিন স্টাফ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এর আগে যাত্রীদের স্বাগত জানাতে আখাউড়া সীমান্তের ভারত প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন: ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন: টিআরটিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সমর রায়, এমডি হেমন্ত দেববর্মাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ আব্দুস সাত্তার।
জানা যায়, গত ২০০১ সালে আগরতলা-কলকাতা ভায়া ঢাকা মৈত্রী এবং শ্যামলী বাস পরিষেবা শুরু হয়েছিল। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বন্ধ ছিল দুই দেশের যাত্রী পরিষেবা। বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির কারণে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিষেবাটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীল সরকার গঠন হওয়ার ভারতবর্ষে এবং বাংলাদেশে ভিসা সরলীকরণ করা হয়েছে। ফলে আজ থেকে পুনরায় এই পরিষেবা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ এবং রাজ্যের যাত্রী সাধারণ যে উপকৃত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপ্পল বলেন, ‘নতুন সরকার আসার পর এই বাস সার্ভিসটি চালুর মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় আমরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি, পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের পক্ষ থেকেও আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’
এ দিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন গতির প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরা পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তিনি জানান, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। এই বাস পরিষেবা শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তিনি।




