Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ২ ১৪৩৩, শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬

টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২৭, ২০ মে ২০২৬

প্রিন্ট:

টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

ছবি: সংগৃহীত

টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করতে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। আজ বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ রকম পরিস্থিতি দেখা দেয়। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণ ছিল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে (অন্তর্বর্তী সরকারের) মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় না এ ধরনের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি আপনারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাচাই করে নিতে পারেন।’

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের দাবি, ইউনিসেফ হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে তৎকালীন সরকারকে সতর্ক করেনি।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার হাতের কাছে একেবারে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আমি এটুকু জানি যে, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যে, যিনি নতুন করে এই দায়িত্ব পাবেন তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। একইসঙ্গে আমি বলতে পারি, আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে, আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে।’

গত দুই বছর বাংলাদেশে টিকা সংকটের বিষয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আমরা আগেভাগেই সতর্ক করছিলাম এবং ক্রমাগত মনে করিয়ে দিচ্ছিলাম যে তারা সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।’

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘এই ঘটনার পর আফটার অ্যাকশন রিভিউ বা পরবর্তী আলোচনা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খতিয়ে দেখব কেন অনেক বছর ধরে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে (টিকাদান প্রক্রিয়া) কাজ করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে আর মারা না যায়। আমরা যা যা কিনি, তার জন্য জনসম্মুখে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। এখানে আপনি শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড় সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না। আপনি সেই টিকাই নেবেন, যেটার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই ইউনিসেফ বহু বছর আগে বিশ্বের জন্য টিকা সংগ্রহ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ করি। টিকা প্রস্তুতকারকদের সাথে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমরা অনেক বেশি পরিমাণে কিনি, তাই আমরা দামে সাশ্রয় করতে পারি। ইউনিসেফ যে দামে টিকা পায়, তার চেয়ে কম দামে দরপত্র পাওয়া সম্ভব নয়, আমরা তা জানি।’

Walton
Walton