Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৯ কার্তিক ১৪২৭, রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

৪ এপ্রিল বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে স্বীকৃতি দেন ইন্দিরা গান্ধী


০৪ এপ্রিল ২০২০ শনিবার, ০৯:১৩  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


৪ এপ্রিল বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে স্বীকৃতি দেন ইন্দিরা গান্ধী

ঢাকা: দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কারণ, সেদিন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তিনি সেদিন এক অসাধারণের পন্থা অবলম্বন করে বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার মূল খসড়া প্রনয়ণকারী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন আমাদের নেতৃবৃন্দকে স্বীকৃতি দেন, সেটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।’ তিনিও তখন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, তবে, তাজউদ্দীন আহমদসহ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন না। তাদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য মিসেস গান্ধী এক অসাধারণের পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।

পঞ্চাশতম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাসস-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুর রহমানের সঙ্গে একাত্তরের ঘটনাবলীর স্মৃতিচারণমূলক এক সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার আমিরুল বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দরজায় একটি ‘কী-হোল’ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পরিচয় নিশ্চিতকরণের পন্থা হিসেবে সেটি ব্যবহার করেন।’

তিনি আরও জানান, ‘অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ঘটনাক্রমে আগেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং মিসেস গান্ধী তাকে দর্শনার্থীদের কী-হোলের মধ্য দিয়ে দেখতে এবং তারা সত্যিই আমাদের নেতা কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য বলেন।’

তিনি বলেন, ‘হক সঙ্গে-সঙ্গে ‘আমাদের নেতৃবৃন্দে’র পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন এবং তারপরেই গান্ধী তাজউদ্দীন আহমদকে তাঁদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য ভিতরে ডাকেন, যা সেদিন একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের গতিপথ তৈরি করে।’তিনি বলেন, ‘তাজউদ্দীন ভাই মিসেস গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করতে একাই ভেতরে যান।’

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদেরকে নাম পরিবর্তন করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ভারতে প্রবেশ করতে হয়েছিল। ২৫ মার্চ এর পরে এসেছিলেন বলে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাজউদ্দীন আহমদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে তিনি নিজেকে ‘রহমত আলী’ এবং তাজউদ্দীন আহমদ নিজেকে ‘মোহাম্মদ আলী’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

কলকাতায় সংক্ষিপ্ত অবস্থানের পরে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠনে ইন্দিরা গান্ধীর সমর্থন পেতে বিএসএফ সহায়তা নিয়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছিলেন।

আমিরুল বলেন, ‘তবে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ‘মোহাম্মদ আলী’ সত্যই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হয়েছিল। এমনকি মিসেস গান্ধী তাঁর অফিসে পৌঁছানোর পরও তাজউদ্দীন আহমদের পরিচয় পুনরায় নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, স্কুলজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তৎকালীন পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক তাঁর বন্ধু বিএসএফের তৎকালীন সিনিয়র কর্মকর্তা গোলোক মজুমদারের সহায়তায় আগেই দিল্লি পৌঁছেছিলেন।

তিনি বলেন, গোলোক মজুমদার সিরাজুল হককে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য তার অফিস কক্ষের ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এসময় সময় তাজউদ্দীন আহমদ এবং অন্যরা ঘরের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা এবং সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি। তিনি তার পিতার ওই অনুষ্ঠানের ঘটনা উল্লেখ করে আমিরুল ইসলামের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। রিমি বলেন, কিছুটা অদ্ভুত হওয়া সত্ত্বেও একাত্তরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের কীভাবে পরিচয় হয়েছিলেন, তিনি পরে বিষয়টি শুনেছেন।

তিনি বলেন, আমার বাবা যেভাবে আমার মায়ের কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলেন, আমি আসলে তা আমার মায়ের (আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা জোহরা তাজউদ্দিন) কাছ থেকেই জেনেছি।’

অ্যাডভোকেট সিরাজুল হকের পুত্র বর্তমান আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানান, ২৫ মার্চ ক্র্যাকডাউন হওয়ার কিছুদিন আগেই তার বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী কসবা অঞ্চলে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং পাকিস্তানি হানদার বাহিনী নারকীয় হামলা শুরু করার সঙ্গে-সঙ্গে তিনি সীমান্ত অতিক্রম করেন।

তিনি বলেন, বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে সীমান্তবর্তী আসনের এমপিএ হিসেবে ভালই চিনতেন এবং তারা তাকে ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের কাছে নিয়ে যান। তিনি পরে ত্রিপুরার লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্টনি ল্যানস্লট ডায়াসের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে গান্ধীর সঙ্গে তাঁর সভার ব্যবস্থা করার জন্য পরিচয় করিয়ে দেন।

হক, যিনি দেশের অন্যতম বিখ্যাত অপরাধ বিষয়ক আইনজীবী ছিলেন, পরবর্তীকালে মুজিবনগর সরকারের দায়িত্ব পালন করেন এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন জোগাড় করতে তাঁকে বিদেশে প্রেরণ করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পরই খুনী খোন্দকার মোশতাককে রাষ্ট্রপতি করায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধু খুনের বিচারের প্রধান আইনজীবী হিসেবে হককে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।-বাসস

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।