Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মেয়রের উদ্যোগে স্বস্তি: ময়ূর নদ ও ২২ খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু


০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার, ১০:১৪  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


মেয়রের উদ্যোগে স্বস্তি: ময়ূর নদ ও ২২ খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু

খুলনা: অবশেষে খুলনা মহানগরীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা ময়ূর নদের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। খুলনা সিটির মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ২২টি খালও বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ধখল করে ইমারত গড়ে তুলেছেন। প্রভাবশালী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দূল খালেক মাঠে নেমেছেন।

ইতোমধ্যে তিনি দখল হয়ে যাওয়া সে সকল খাল ড্রেন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকারে কেসিসির পক্ষ থেকে গল্লামারী ব্রীজের নিকট থেকে ময়ূর নদ দখলমুক্তের অভিযান শুরু হয়।

সূত্রমতে, ইতোপূর্বে মেয়র থাকাকালিন সময়ে তিনি কেসিসির মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ২২টি খাল পুনরুদ্ধার করার উদ্যোগ নেন। খাল অবৈধ দখল মুক্ত করতে একটি কমিটিও গঠণ করেন তিনি। সেই কমিটির প্রধান করেন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ ইকবাল বিথারকে। এক পর্যায়ে দখলদার উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হয়। কিন্তু আততায়ীরদের বুলেটের আঘাতে ২০০৯ সালের ১১ জুলাই জীবন দিতে হয় খাল উদ্ধারে দায়িত্বে থাকা শহীদ ইকবাল বিথারকে। খুনের ১০ বছর পরও তার পরিবার দাবি করছে খাল উদ্ধার অভিযানে সামনে থাকায় বিথারকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপর এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায় ২২ খাল দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া। এরপর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০১৩ মেয়র পদে তালুকদার আব্দুল খালেক হেরে যান। সে সময়ে নির্বাচিত মেয়র নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যত: কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমনকি দখল হয়ে যাওয়া এসকল খাল, ড্রেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতেও কোন ফলপ্রসু উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেননি। তৎকালিন মেয়রের দায়িত্বহীনতায় কেসিসির ড্রেন, খালের উপর একের পর এক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।

২০১৮ সালের মে মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পূর্বে আওযামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নগরবাসীকে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্তরায় ২২ খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে সেগুলো সচল করা হবে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেয়র দ্বিতীয় দফায় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে বক্তব্যে আবারও অবৈধ দখলদার মুক্ত করার কথা পুর্নব্যক্ত করে দখলবাজদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, খালের উপর যদি কেউ সুরম্য অট্টালিকাও তৈরি করেন আর দখলবাজ যতই ক্ষমতাধর হোক না কেন সে স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিকটে চলে আসায় দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেননি তিনি। ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর সিটি মেয়র তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সোমবার সকালে ময়ূর নদীসহ মহানগরীর অভ্যন্তরীণ ২২টি খালের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সিটি মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধার করার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে মহানগরীর অভ্যন্তরীণ খালসমূহও দখলমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ খাল দখল ও খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ। এর ফলে পানি দূষণসহ খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি যৌথ জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে উল্লেখ করেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলার সাথে সংযুক্ত খালসমূহ অবৈধ দখলমুক্ত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, নগরীর মধ্য দিয়ে বয়ে চলা খালগুলি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে অস্তিত্ত হারিয়েছিল। আমরা বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল ও প্রেনের উপর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে আসছি। এই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছি। বর্তমান মেয়র তালুকদার খালেক নির্বাচনের পূর্বে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি নির্বাচিত হলে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করবেন। নগরবাসীর বসবাসের শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সিটি মেয়র কার্যক্রম শুরু করেছেন। এজন্য তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন নদী, খাল, ড্রেন ও ফুটপাত অবৈধ ধখল মুক্ত করার অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপশি মনিটরিংও জোরদার করতে হবে। তা নাহলে দখলবাজরা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি ( বেলা)’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল ময়ূর নদসহ দখল হয়ে নগরীর ২২ খাল দখলমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, কেসিসির ২২ খালের উপর শুধুমাত্র ব্যক্তি বিশেষ নয় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের কার্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। খাল দখলমুক্ত করতে এসকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, মহানগরী এলাকার ২২টি খালের মধ্যে সাহেব খালী খাল, বাটকেমারী খাল, ছড়িছড়া খাল, ময়ূর নদী, মন্দার খাল, হরিণটানা খাল, তালতলা খাল, তমিজ উদ্দিন খাল, মতিয়াখালী খাল, খুদে খাল, নারকেলবাড়িয়া খাল, ছোট বয়রা শ্মশানঘাট খাল এবং মজুমদারের খাল ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্টসূত্র জানায়, সাহেবখালী খালের ওপর রূপসায় সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, ২৮নং ওয়ার্ড কার্যালয়, লবণচরা খালের ওপর ৩১নং ওয়ার্ড কার্যালয়, নবী নগর খালের ওপর ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, ২৮নং ওয়ার্ডে নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। পিটিআই মোড়ে ওয়ার্ড কার্যালয় স্থাপিত হওয়ায় ২৩, ২৮ ও ২৯নং ওয়ার্ডের পানি নিস্কাশন হচ্ছে না।

রেলওয়ে এলাকায় যে খালটি ছিল তারও ওপর এখন হলুদ-মরিচের আড়ৎ। আড়ংঘাটা থেকে গল্লামারী পর্যন্ত পয়ঃনিস্কাশনের একমাত্র পথ ময়ূর নদীর বিভিন্ন স্থানে দখল হওয়ায় আলুতলা বাঁধ দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কমে গেছে। ময়ূর নদের গল্লামারী নামক স্থানে ভরাট হয়েছে। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ করায় একটি খালের মুখ বন্ধ হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।