Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৪ চৈত্র ১৪২৬, শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

‘নেতাজি যে অমর তাঁর প্রমাণ স্বাধীন বাংলাদেশ’


২৪ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার, ১২:৫৫  পিএম

ফাহিম আহম্মেদ মন্ডল

বহুমাত্রিক.কম


‘নেতাজি যে অমর তাঁর প্রমাণ স্বাধীন বাংলাদেশ’

স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রশ্নে যুগ যুগ ধরেই ভারত ভুখণ্ড রত্নগর্ভা। হাজারো-লাখো সূর্য-সন্তানের জন্ম হয়েছে এই উপমহাদেশে, যাঁরা রচনা করেছেন একের পর এক ইতিহাস! সেই সূর্য সন্তানদের কীর্তি হয়ে আছে ইতিহাসের অমর গাঁথা। এই অগুনতি সূর্য-সন্তানের মধ্যে যিনি সর্বাধিক উজ্জ্বল, যিনি নিজ গুণে একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করে গিয়েছেন, যাঁর দেশপ্রেমের তুলনা কেবল তিনি নিজেই, তিনি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। তিনি নিজেই ইতিহাস! মহান বিপ্লবীর ১২৩ তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও শত-সহস্র প্রণাম।

ভারতের বর্তমান ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে (ওড়িয়া বাজার) ১৮৯৭ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর বাবা ছিলেন কটক প্রবাসী বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী জানকীনাথ বসু। মা প্রভাবতী দেবী। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে ৯ম ছিলেন তিনি। ছিলেন মেধাবী ছাত্র। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত কটকের একটি ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন, যা বর্তমানে স্টিওয়ার্ট স্কুল নামে পরিচিত। এরপর ভর্তি হন কটকের রর্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকে ১৯১১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন নেতাজি। ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে সাম্মানিক সহ বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজউইলিয়াম হলে উচ্চশিক্ষার্থে ভর্তি হন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান পেয়েও বিপ্লব-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সেই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রসঙ্গে নেতাজী বলেছিলেন, ‘কোনো সরকারের সমাপ্তি ঘোষণা করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হল তা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া।’

এই সময় অমৃতসর হত্যাকাণ্ড ও ১৯১৯ সালের দমনমূলক রাওলাট আইন ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছিল। ভারতে ফিরে নেতাজি স্বরাজ নামক সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করেন এবং বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রচার দায়িত্বে নিযুক্ত হন। তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বাংলায় জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু যখন কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন, তখন সুভাষচন্দ্র তাঁর অধীনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯২৫ সালে অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে তাঁকেও বন্দী করা হয় এবং মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয়। সেখানে তিনি যক্ষায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতা পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হোন। ইতোপূর্বে ১৯২৮ সালেই ব্রিটিশদের হতভম্ব করে দিয়ে তিনি প্রায় দু হাজার কর্মীদের সেনা পোশাকে কলকাতার রাস্তায় মার্চ করিয়েছিলেন!

রাজনৈতিক জীবনের আড়াই দশকের মধ্যে নেতাজি মোট ১১ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় বন্দী রাখা হয়েছিল। ১৯৩১-৩২ সালে তাঁকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয়।
১৯৩৮ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য ত্রিপুরা সেশনে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে নেতাজির বিপক্ষে গিয়ে পট্টভি সিতারামায়াকে সমর্থন দেন মহাত্মা গান্ধি। নির্বাচনের ফলাফল শোনার পর গান্ধিজি বলেছিলেন ‘পট্টভির হার আমার হার।’ কিন্তু জয়যুক্ত হলেও নেতাজী সুষ্ঠুভাবে কার্য সম্পাদন করতে পারছিলেন না। বিরোধীতার একপর্যায়ে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক (All India Forward Block) গঠন করেন।

১৯৩৮ সালে তিনি জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদের প্রস্তাবনা দেন। ব্রিটিশরা কবে ভারতীয়দের স্বাধীনতার অনুমোদন দেবে তার জন্য বসে না থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নেওয়া উচিত বলে প্রস্তাব দেন নেতাজি। তিনি বিশ্বাস করতেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নির্ভর করে অন্য দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের উপর। তাই তিনি ভারতের জন্য একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের ব্রিটিশদের পক্ষে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নেতাজী নাখোশ ছিলেন। তিনি সে সময় গৃহবন্দি ছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন ব্রিটিশরা তাঁকে যুদ্ধ শেষের আগে ছাড়বে না। তাই তিনি দুইটি মামলার ফায়সালা বাকি থাকতেই আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে জার্মানি পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্রিটিশদের অন্ধকারে রেখেই তিনি পালাতে সক্ষম হোন। কিন্তু আফগানিস্তানের পশতু ভাষা না জানা থাকায় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্তর-পশ্চিম সিমান্ত প্রদেশের নেতা মিয়া আকবর শাহকে তাঁর সাথে নেন। যেহেতু তিনি পশতু ভাষা জানতেন না, তাই তাঁর ভয় ছিল, আফগানিস্তানবাসীরা তাকে ব্রিটিশ চর ভাবতে পারে। তাই মিয়া আকবর শাহের পরামর্শে তিনি অধিবাসীদের কাছে নিজেকে একজন কালা ও বোবা বলে পরিচিত করেন। সেখান থেকে সুভাষ বসু "কাউন্ট অরল্যান্ডো মাজ্জোট্টা" নামক একজন ইতালির নাগরিকের পরিচয়ে মস্কো গমন করেন। মস্কো থেকে রোম হয়ে তিনি জার্মানি পৌঁছান। তিনি বার্লিনে মুক্ত ভারতীয় কেন্দ্র (Free India Center) গড়ে তোলেন।

ভারতের স্বাধীনতার জন্য তিনি জার্মান চ্যান্সেলর এডলফ হিটলারের সাহায্য প্রার্থনা করেন। হিটলারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে হিটলারের উদাসিনতা তাঁকে হতাশ করে। ফলে ১৯৪৩ সালে সুভাষ বসু জার্মান ত্যাগ করেন। হিটলারের তরফে উপহার পাওয়া একটি জার্মান সাবমেরিন তাঁকে সমুদ্রের তলদেশে অন্য একটি জাপানি সাবমেরিনে পৌঁছিয়ে দেয়। সেখান থেকে তিনি জাপান পৌঁছান।

জাপানের কাছে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভারতীয় বন্দী সেনাদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংগ্রামে জাপান সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন। জাপান তাঁর আর্জিতে ইতিবাচক ভূমিকা নেয়। ভারতীয় বন্দী সৈনিকদের সঙ্গে করে তিনি সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ এর পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। এটিই পরবর্তী সময়ে বর্তমান ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী।

ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (INA-Indian National Army) মূলত গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী নেতা রাসবিহারি বসুর হাতে। ১৯৪৩ সালে রাসবিহারি বসু এই সেনাবাহিনীর দ্বায়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বসুকে হস্তান্তর করেন। একটি আলাদা নারী বাহিনী (রানি লক্ষীবাঈ কমব্যাট) সহ এতে প্রায় ৮৫,০০০ হাজার সৈন্য ছিল। এই বাহিনীর কর্তৃত্ব ছিল প্রাদেশিক সরকারের হাতে, যার নাম দেওয়া হয় ‘মুক্ত ভারতের প্রাদেশিক সরকার’ (আরজি হুকুমাত-ই-আজাদ হিন্দ)। এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা, আদালত ও আইন ছিল। অক্ষ শক্তির ১১টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দান করে। আই.এনএ’র সৈন্যরা জাপানিজদের আরাকান ও মেইক্টিলার যুদ্ধে সাহায্য করে।

সুভাষচন্দ্র বসু আশা করেছিলেন, ব্রিটিশদের উপর আই.এন.এ.’র হামলার খবর শুনে বিপুল সংখ্যাক সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে মুখ ফিরিয়ে আই.এন.এ.-তে যোগ দেবে। কিন্তু এই ব্যাপারটি তেমন ব্যাপকভাবে ঘটার আগেই বিপরীত দিক থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে জাপান তার সৈন্যদের আই.এন.এ. থেকে সরিয়ে নিতে থাকে। একই সময় জাপান থেকে অর্থের সরবরাহ কমে যায়। অবশেষে, ব্রিটিশদের কাছে জাপান আত্মসমর্পণ করলে আই.এন.এ. ও আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সৈন্যরা নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার ডাক দিলে ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগে বাধ্য হয়।

এই প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মি. এটলি, যিনি মূলত ভারতীয় স্বাধীনতা আইনে সই করেছিলেন, তাঁর উক্তিটি বেশ বিখ্যাত। তিনি তাঁর ভারত সফরের সময়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের জয়লাভের পরও ভারত ত্যাগের কারণ জানতে চেয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করেছিলো শুধুমাত্র তিনটি কারণে। প্রথম, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, দ্বিতীয়, আইএনএ, তৃতীয়, নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত ভারতীয় সৈনিকদের ৪৬ সালের নৌ বিদ্রোহ।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে ‘দেশনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি তাঁকে উৎসর্গ করেছিলেন। উৎসর্গপত্রে কবিগুরু লিখেছেন- ‘স্বদেশের চিত্তে নূতন প্রাণ সঞ্চার করবার পূণ্যব্রত তুমি গ্রহণ করেছ, সেই কথা স্মরণ ক’রে তোমার নামে ‘তাসের দেশ’ নাটিকা উৎসর্গ করলুম।’

আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযানে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও সুভাষচন্দ্রের শৌর্য ও আপোষহীন রণনীতি ভারতকে স্বাধীনার লাভের অভীষ্ট লক্ষে পৌছে দেয়। নেতাজির জন্মদিন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে একটি রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীনতার পর কলকাতার একাধিক রাস্তা তাঁর নামে নামাঙ্কিত করা হয়।

বর্তমানে কলকাতার একমাত্র ইনডোর স্টেডিয়াম নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম তাঁর নামে নামাঙ্কিত। নেতাজির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে দমদম বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তিত করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয়। তাঁর নামে কলকাতায় স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং দিল্লিতে স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি। কলকাতা মেট্রোর দুটি স্টেশনের নামকরণ করা হয় নেতাজির নামে। যার একটি ‘নেতাজি ভবন’ (পূর্বনাম ভবানীপুর) ও অন্যটি ‘নেতাজি’ (পূর্বনাম কুঁদঘাট)।

নেতাজির সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো, ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” (হিন্দিতে, তুম মুঝে খুন দো, ম্যায় তুমহে আজাদি দুঙা)। ৪ জুলাই ১৯৪৪ সালে বার্মাতে এক র‌্যালিতে তিনি এই উক্তি করেন। তাঁর আর একটি বিখ্যাত উক্তি হল ‘ভারতের জয়’ (‘জয় হিন্দ’)। উক্তিটি পরবর্তিতে ভারত সরকার গ্রহণ করে নেয়। বর্তমানে এটি ভারতের জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

নেতাজি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা এবং নায়ক। তিনি হিন্দু-মুসলিম-খৃষ্টান-শিখ-বৌদ্ধ সকল জাত-পাতের উর্ধ্বে গিয়ে নিজেকে ভারতীয় বলে সম্বোধিত করতেন এবং তাঁর নেতৃত্বে অভূতপূর্ব গণজাগরন ও সম্প্রীতির জোয়ার উঠেছিলো! তিনি সারা ভারতবাসীকে এক মঞ্চে আনতে চেয়েছিলেন এবং আজও তাঁর নামে উদ্বেলিত হয় লাখো-কোটি ভক্ত প্রাণ!

ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় নেতাজি অনেকটা বিস্মৃত হতে চললেও তাঁর অবদান কোনোদিনও অম্লান হবার নয় এবং সরকারীভাবে ভারতের পাশাপাশি নানা সংগঠনের উদ্যোগে বর্তমানে বাংলাদেশেও নেতাজিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর অবদানকে প্রচার করা হয়! নেতাজি অবিভক্ত ভারতের সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বীরদর্পে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতাজির আদর্শ অবশ্যই অনুসরণীয়!

গত ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলকাতা সফরে গিয়ে নেতাজি ভবন পরিদর্শনকালে যথার্থই বলেছেন, "অখণ্ড ভারতে নেতাজী নেতৃত্ব না দিলে ভারত-পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। আমার বাবার অন্যতম নায়ক ও আদর্শ নেতাজিসুভাষ বসু।"

লিখাটি শেষ করবো আমাদের জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধুর একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, যা তিনি স্বাধীনতা উত্তর যুগে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে ভারতের কলকাতায় গিয়ে বলেছিলেন; "নেতাজি অমর! তাঁর প্রমাণ স্বাধীন বাংলাদেশ!"

লেখকঃ শিক্ষার্থী, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। ইমেইল – [email protected]

থ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, নেতাজিকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন-নিবন্ধ

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।