Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩০ কার্তিক ১৪২৬, শুক্রবার ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নেতাজিকে নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি কতকাল?


১৯ আগস্ট ২০১৯ সোমবার, ০২:১৮  পিএম

প্রিয়ম গুহ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


নেতাজিকে নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি কতকাল?

ভয় হয়। ১৮ আগস্ট এলেই ভয়ে থাকি, এই হয়তো কোন দলের নেতারা, কোনো স্বার্থান্বেষী মানুষ নেতাজি কে আবার আরেকবার মৃত্যুর পথে ঠেলে দেবেন। ঠিক তাই এ বছরও তাই ঘটল-আশঙ্কা সত্যি হলো।

বলছিলাম ভারতমাতার সূর্যসন্তান মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সেই তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কাল্পনিক অসত্য থিওরিকে নিয়ে বহু যুগের জঘন্য মিথ্যাচারের পুনাবৃত্তি নিয়ে। 

১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানের তাইহুকু বিমানবন্দরের সেই তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনার মিথ্যা কল্পকাহিনীর যবনিকা পড়েছে বহু পূর্বেই। বহু গবেষণায়, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্দেহাতীতভাবে এটি প্রমাণিত যে তিনি ওই দুর্ঘটনায় মারা যাননি-এবং আদতে কোনো দুর্ঘটনাই ঘটেনি। একটি শ্রেণি এই মিথ্যা রটনাকে পুঁজি করে ফায়দা লুটবার প্রয়াস চালিয়ে আসছে গত সাত দশক। এবারও সেই জঘন্য মিথ্যাচারের পুনরাবৃত্তি। আর তা যখন খোদ বাংলাতেও আমরা লক্ষ্য করি তখন লজ্জায় বিমুঢ় হয়ে যাই। 

পশ্চিমবঙ্গের কোন এক রাজনৈতিক দলের নেতা বলে বসলেন ঠিক একই কথা। কিন্তু কেন এই অপপ্রচার, কেন এই চেষ্টা ? আমরা জানি না মানুষ কি সুখ পায়-তাও বুঝিনা কেন যে এত বড় এক ত্যাগী কে দেশের বীর সন্তান কে অপমান করে তাও বুঝিনা।
আবার অনেকেই বলছে শুনছি গুমনামী বাবা নাকি নেতাজি হতেই পারে, না হতেই পারে।

না কেন তার উত্তর তারা কোনদিনই দিতে পারবে না আমি নিশ্চিত। সঠিক যুক্তি সম্মত উত্তর কারোর কাছেই নেই। আচ্ছা বলুন, কিছু নেতার ষড়যন্ত্রে যুদ্ধাপরাধী একজন মানুষকে গা ঢাকা দিতে হলে- কি পন্থা অবলম্বন করবেন ?

সন্ন্যাস নিয়ে তিনি গাঁ ঢাকা দিয়েছিলেন এটা যে কেন মানুষের মাথায় ঢোকে না নাকি তারা ঢুকাতে চায় না জানি না, নাকি তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধরা কিছুই শুনবো না। দয়া করে একটু ভাবুন বোঝার চেষ্টা করুন, আর এত বড় মানুষটি কে অপমান করবেন না।

একটা সিনেমা হচ্ছে খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে কিন্তু সেই তথ্য ও যে কিছু অংশে ভুল তাও মাথায় রাখতে হবে কারণ তিনি যাদের অবলম্বনে এই সিনেমাটি তৈরি করছেন তারা যে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না সেটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

এ বিষয়ে আরো একটি সিনেমা তৈরি হচ্ছে সন্ন্যাসী দেশনায়ক নামে চারনিকের অবলম্বনে সঠিক তথ্য নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নেতাজি কে সম্মান দিয়ে অনেক কিছুই করেছেন, কিন্তু তার নেতা-মন্ত্রী আমলারা এক গামলা দুধে একফোঁটা চোনা ফেলে দেওয়ার মত কাজ করলেন। ঘরের কিছু ছেলের ইচ্ছাকৃত কার্যকলাপ নয় তো?

ভুল যদি হয় তাহলে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে কোন অপরাধ নেই। কাউকে কোন স্টেটমেন্ট দিতেও দেখা গেল না তাহলে কি ধরে নিতে হবে দলের এইটাই মত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে যে তিনশোর বেশি ফাইল বেরিয়েছিল সেই সব ফাইল কি একবারও দেখার সময় পেলেন না হেভি ওয়েট নেতারা।

এই দলের কেন্দ্র এবং রাজ্যের নেতামন্ত্রীরা ক্ষমা চাইতে ভুলে গেলেন! মানুষের মনে জায়গা করতে সময় লাগে অনেক কিন্তু মন থেকে বের হতে লাগে জাস্ট ১ সেকেন্ড। এই একটা ভুলে বিপদ বাড়ল অনেকটাই।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।