Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ মাঘ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কমলগঞ্জে বোরো আবাদ বঞ্চিত ছয় গ্রামের প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক কৃষক


১০ জানুয়ারি ২০২১ রবিবার, ০৮:৫৬  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কমলগঞ্জে বোরো আবাদ বঞ্চিত ছয় গ্রামের প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক কৃষক

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ও পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষকরা দু’বছর ধরেই চাষাবাদ বঞ্চিত রয়েছেন। লাঘাটা নদী পুন: খনন কাজের জন্য দেয়া বাঁধে সেচের অভাবে তারা চাষাবাদ বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে ছয় গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক দু’বছর ধরে ক্ষতি গুণছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।

কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীতে দু’বছর ধরে পুন: খনন কাজ চলছে। নদী খননে সেচ সমস্যার কারণে পতনউষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা, পতনঊষার, শ্রীরামপুর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নারায়নক্ষেত্র, রূপষপুর, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক বোরো আবাদ বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে খনন কাজে বাঁধ দেয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলের কেওলার হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পতনউষারের প্রায় দু’শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে বোরো নির্ভরশীল কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে ২০১৯ সনে লাঘাটা নদী পুন:খনন শুরু হয়। তবে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুন: খনন কাজ এখনও ঝুলে আছে। নি¤œাঞ্চলে এই খনন কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মুন্সীবাজার ইউনিয়নের নারায়নক্ষেত্র গ্রামের শাহজাহান মিয়া, আজিজুর রহমান, মনির খান, ইউপি সদস্য রেজাউল করিম নোমান, পতনউষারের বোরো চাষী আনোয়ার খান, ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক আক্তার মিয়া, ফারুক মিয়া, ছমির মিয়া, রেহমান মিয়া, শওকত মিয়া বলেন, নদী খননের জন্য আমরা দু’বছর ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। একদিকে জলাবদ্ধ অন্যদিকে সেচ সংকটে বোরো জমি খাঁ খাঁ করছে। দু’বছরে বোরো ক্ষেত করতে না পারায় আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের কাছে সহায়তা দাবি করছি। তারা আরও বলেন, কেউ কেউ জমি তৈরি ও রোপন করলেও সেচের অভাবে কয়েক শ’ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ বঞ্চিত হচ্ছেন।

কমলগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তোলে ধরে বলেন, কেওলার হাওর এলাকায় যারা জমিতে রোপন করেছিল তাদের জমিও তলিয়ে গেছে। নদী খনন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই গোজামিল। এতে ক্ষতি গুণছেন কৃষকরা। কমলগঞ্জের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল দেব সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলেছি।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, বিষয়টি আমি গত সপ্তাহে শুনে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় সেটি উপস্থাপন করেছি। এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা করবো।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, নদী খনন করতে গেলে কিছুটা তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবেই। এই খনন কাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ উপকৃত হচ্ছেন আবার কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন। সবকিছুর পরে আমাদের কাজ করতে হবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আগামী এপ্রিলের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দিচ্ছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।