ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে সালিশ বৈঠক শেষে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় কাচাবাজার হাউজিং চার রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, একটি সালিশ বৈঠক শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বাশার ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা জানান, পরশু দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার উভয় পক্ষ নিজেরাই সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশের সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের মনমতো না হওয়ায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের ভাই সবুজ জানান, মো. আবুল বাশার বাদশা পেশায় প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি টাউন হল এলাকার রনি নামের এক ব্যক্তির গাড়ি চালাতেন। পাশাপাশি তিনি আদাবর থানার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি আরও জানান, যতটুকু শুনেছেন, বাশার একটি বিচারে (সালিশে) গিয়েছিলেন। সেখানে খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।
নিহত মো. আবুল বাশারের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গফুরের বাড়িতে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বাশারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




