Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

আষাঢ় ১৬ ১৪৩৩, বুধবার ০১ জুলাই ২০২৬

রামমন্দিরে ‘রামচুরি’, তদন্তে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ১ জুলাই ২০২৬

প্রিন্ট:

রামমন্দিরে ‘রামচুরি’, তদন্তে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ফাইল ছবি

ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অযোধ্যা পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত কুম্ভ মেলার সময়ই রামমন্দিরে সবচেয়ে বেশি অর্থ চুরি হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজন কুম্ভ মেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে কুম্ভ মেলার সময় মন্দিরে ভক্তদের দান ও অনুদানের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা যোগসাজশ করে বড় পরিসরে অর্থ আত্মসাৎ করে।

এখন পর্যন্ত এসআইটি আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

ভারতীয় সংবাদবাদ এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ষড়যন্ত্রে আটজনই জড়িত ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, দুলাভাই-শ্যালক জুটি লাভ কুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পুলিশের দাবি, চুরি করা অর্থ দিয়ে তারা একাধিক সম্পত্তিও কিনেছে। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্ধডজনেরও বেশি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তদন্তে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের (এসবিআই) কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও সন্দেহের মধ্যে এসেছে। অর্থের উৎস, লেনদেন ও অর্থ পাচারের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছেও তদন্তের আবেদন জানাবে অযোধ্যা পুলিশ।রাম মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার অনুমোদিত সংস্থা হলো ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (এসবিআই)। ব্যাংকটি এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ দিয়েছে।

মন্দিরের চারটি দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ১৪ সদস্যের একটি দল গণনা করে। তাদের মধ্যে ১১ জন ব্যাংকের কর্মী এবং তিনজন মন্দির ট্রাস্টের প্রতিনিধি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কৌশলপুরী এলাকার একটি আস্তানা থেকে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই জায়গাটি অবিনাশের ভাই অভিষেক শুক্লার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সীমা তিওয়ারি জানান, গত ৫ জুন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, অভিষেকের চারটি বাক্স ওই যোগকেন্দ্রে রাখা ছিল। বাক্সগুলোর ভেতরে কম্বলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নগদ অর্থ। একটি বাক্সের গায়ে ‘রাম রাজ্য কোষ’ লেখা ছিল।
সীমা তিওয়ারির দাবি, অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিষেক তাকে বলেন, তার ভাই অবিনাশ শুক্লা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

তিন দিন আগে তদন্তের অংশ হিসেবে অযোধ্যা পুলিশ সব অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় টিন্নু যাদবের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

টিন্নু যাদব একসময় রাম মন্দির ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের গাড়িচালক ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দান গণনার কক্ষের একটি চাবি টিন্নু যাদবের কাছে ছিল, আর অন্যটি ছিল ব্যাংকের কর্মীদের কাছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই দানের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। পরে চুরি করা অর্থ টিন্নু যাদব ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হতো।
পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নথিও জব্দ করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি অর্থের লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় এমন সব লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ তাদের পরিচিত আয় বা বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮৯ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অর্থ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ এফআইআর দায়েরের আগেই নিজস্ব উদ্যোগে উদ্ধার করেছিল।

Walton
Walton