ফাইল ছবি
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি সার্বজনীন পূজা মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের দত্তবাড়ী সার্বজনীন পূজা মন্দিরকে ঘিরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। প্রায় ৩৭ বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা এ মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করে আসছেন। সোমবার ভোর আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিহিত ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক মন্দিরের সামনে এসে প্রথমে একটি বাঁশ এবং পরে ইট দিয়ে মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি মন্দিরে থাকা কালী ও লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কল্পনা রানী সিংহ বলেন, ভোরে পূজার জন্য আমাদের বাড়ির ছাদবাগান থেকে ফুল তুলছিলাম। এ সময় হঠাৎ মন্দিরের ভেতর থেকে একটি শব্দ শুনতে পাই। সন্দেহ হলে তাকিয়ে দেখি, এক যুবক মন্দিরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে শুরু করি। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে থাকলে ওই যুবক তড়িঘড়ি করে মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রতিমা ভাঙচুর করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আমরা মন্দিরে গিয়ে দেখি প্রতিমা ও মন্দিরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দত্ত বলেন, ভোর আনুমানিক পৌনে ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় পূজার জন্য নিজ বাড়ির ছাদবাগান থেকে ফুল তুলতে গিয়ে কল্পনা রানী সিংহ মন্দিরের তালা ভাঙার দৃশ্য দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকতে শুরু করলে ওই যুবক দ্রুত মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রতিমা ভাঙচুর করে পালিয়ে যান। আমরা চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাস্থলে গেলেও ততক্ষণে তাকে আর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ওই যুবককে আমরা কেউ চিনতে পারিনি। তাকে স্থানীয় বাসিন্দা বলেও মনে হয়নি। মন্দিরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। আমরা আশা করছি, ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।




