রাজনীতিক এ কে ফজলুল হক
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ (নিউক্লিয়াস)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য এবং মুজিব বাহিনীর অন্যতম অগ্রনায়ক এ,কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।
তৃণমূল রাজনীতির কৃতি পুরুষ এ,কে ফজলুল হক চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সংগঠক ও রাউজান থানা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষানুরাগী এই রাজনীতিক রাউজানে সমবায় আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা হিসেবেও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখেন।
১৯৩২ সালের ১৭ জুলাই রাউজানে এক সম্ভ্রান্ত ও বনেদি পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এ,কে ফজলুল হক। শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হকের ঋণ সালিশি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, চট্টগ্রাম আদালতের জুরার এবং রাউজান শিক্ষক সমিতির আমৃত্যু সভাপতি, উত্তর চট্টগ্রামের ‘শিক্ষকরবি’ খ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক ও মুসলিম মনীষা হযরত আলহাজ্ব ওছমান আলী মাস্টার (রহ.) এর প্রথম পুত্র ফজলুল হক।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনের নবীন বিপ্লবী সহযোদ্ধা ফজলুল হক ১৯৪৭ সালে কলকাতায় ইসলামীয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতার সূত্রে দেশ বিভাগ আন্দোলন, ঢাকা কলেজের ছাত্র হিসেবে ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হলে সূচনালগ্নে জড়িত হন। ১৯৫০ সালে আনবিক বোমা নিষিদ্ধকরণের দাবিতে গঠিত বিশ্বশান্তি পরিষদের বিশিষ্ট সংগঠক এবং ’৫১ সালে হরিখোলার মাঠে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সংস্কৃতি সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ভাষা আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ঢাকার রমনায় পুলিশের ১৪৪ ধারা ভঙ্গের মিছিলে চট্টগ্রামের সন্তান তথা প্রথম ভাষাসৈনিক হিসেবে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন কার্যক্রম এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানে সংস্কৃতি সম্মেলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ কে ফজলুল হক
১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন ও ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ আমৃত্যু দেশের সাধারণ মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের আন্দোলন সংগ্রামে নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁদের ‘হযরত আলহাজ্ব ওছমান আলী মাস্টার (রহ.)’র বাড়ি’ মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম প্রধান ‘শেল্টার হাউস’ ছিলো। অসাম্প্রদায়িক ও দুর্বার সাহসী ফজলুল হক দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সাথে ১১নং পশ্চিম গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি এবং গহিরা শান্তির দ্বীপ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিরও দীর্ঘসময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুমের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,কে ফজলুল হক গণপাঠাগার, আমরা করবো জয়সহ বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থা ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মরহুমের ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির আওতায় ‘বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,কে ফজলুল হক গণপাঠাগার’ ও পরিবারের উদ্যোগে রাউজানে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গরীব-দুঃস্থ ও এতিমখানা, গৃহনির্মাণ, বিদেশ গমন, কন্যাদায়গ্রস্থ পরিবার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নানা আয়োজনে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এ,কে ফজলুল হক ও বেগম লায়লা হক স্মৃতি বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে বছরব্যাপী ৭ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।




