Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

মাঘ ৬ ১৪৩২, মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬

ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গৃহহীন ৩ হাজার রোহিঙ্গা

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিন্ট:

ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: গৃহহীন ৩ হাজার রোহিঙ্গা

ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে শত শত বসতঘর। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন অন্তত ৩ হাজার রোহিঙ্গা।মঙ্গলবার ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মধ্যরাত প্রায় তিনটা। চারপাশ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আকস্মিক আগুনের লেলিহান শিখা আর আতঙ্কিত মানুষের চিৎকারে ঘুম ভাঙে উখিয়ার ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের বাসিন্দাদের।ঘুম ভেঙেই চোখে পড়ে-চারদিকে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ব্লকে। প্রাণ বাঁচাতে শিশু ও বৃদ্ধদের কোলে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছোটেন মানুষ।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ৩টার দিকে ডি-৪ ব্লকের একটি শেডে আগুনের সূত্রপাত হয়। বাতাসের তীব্রতায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘনবসতিপূর্ণ শেডগুলোতে। খবর পেয়ে উখিয়া, রামু ও টেকনাফ থেকে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অন্তত সাড়ে ৪০০ বসতঘর, ১০টি শিক্ষা কেন্দ্র এবং তিনটি মসজিদ ও মাদ্রাসা। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তাদের।

ক্যাম্প ১৬, ডি-২ ব্লকের রোহিঙ্গা হাফেজ কলিমউল্লাহ বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে আগুন লাগে। এই আগুনে পুরো ব্লক পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার ল্যাপটপ, রেডিও থেকে সবকিছু শেষ। এখন খোলা আকাশের নিচে বসে আছি। সকালে শীত নিয়ে কষ্ট পেয়েছে, এখন রোদে কষ্ট পাচ্ছি। আর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ও রাত নামবে তখন কষ্ট আরও বাড়বে শীতে।’

আরেক রোহিঙ্গা সখিনা খাতুন বলেন, ‘সকাল থেকে খাওয়ার জন্য কিছু পায়নি। বয়স্ক শাশুড়ি, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

ডি-৪ ব্লকের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, ‘হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে যায়। দেখি চারদিকে আগুন আর আগুন। বউ-বাচ্চাদের কোন রকম রক্ষা করেছি। কিন্তু তথ্য কার্ড থেকে শুরু করে গ্যাসের সিলিন্ডার, কাপড়-চোপড়, রান্নার করার হাড়ি-পাতিল কিছুই নেই। সব আগুনে কেড়ে নিয়েছে। এখন অসহায় অবস্থা খোলা আকাশের নিচে সময় পার করছি।’

প্রাথমিকভাবে বসত ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তথ্য দিলেও তদন্ত শেষে নিশ্চিত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘আমরা রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উখিয়া ফায়ার স্টেশন এবং ক্যাম্পের ভেতরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও রামু ফায়ার স্টেশন থেকেও ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওনা করে। মোট ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে। আমরা ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই এবং সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।’

সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন আরও বলেন, ‘এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে ৪৪৮টি ছোট-বড় বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০টি লার্নিং সেন্টার, একটি মক্তব এবং দুটি মসজিদ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সঠিক কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বসতঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কষ্ট লাগবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

Walton
Walton