Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

ভাদ্র ৩ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড

নিহতদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০১, ১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্ট:

নিহতদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবাযেদ। তার ভাষ্য, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপ হাইকমিশনারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৃতদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করছে মিশন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের আবাসিক হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। এতে আগুনের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ মানবজমিনকে জানান, এখন পর্যন্ত সাত জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি, আর দুইজন ভারতীয় নাগরিক। নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবুও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে। নিহতদের মধ্যে আরও বাংলাদেশি আছে কিনা তা বাকি দুই জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর জানা যাবে বলে জানান উপ হাইকমিশনার।

মৃতদেহ কবে নাগাদ দেশে আনা হবে সে বিষয়ে উপ হাইকমিশনার জানান, স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মৃতদেহ দেশে পাঠানো হবে। আগামী শুক্রবার নাগাদ মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানান মোহাম্মদ খালেদ।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ সরকার বহন করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, নিহতরা শ্রমিক ছিলেন না। তাই এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হয়তো খুব বেশি থাকবে না। তবে পরিবারের সদস্যরা যদি মৃতদেহ দেশে ফেরানোর খরচ বহন করতে না পারেন, তাহলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।


স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল মালিকসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী এখনও পলাতক রয়েছেন। এবিপি আনন্দের এক খবরে বলা হয়, হোটেলটির মালিকের নাম বিরেশ্বর মিত্র। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা না মেনেই হোটেল চালাচ্ছিলেন তিনি। বিরেশ্বর মিত্রের স্ত্রী লিপি মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাতে হোটেলে আগুন লাগার পর বেশ কয়েকবার কল আসে, তবে আমরা তা শুনিনি। সকালে আগুন খবর শুনে আমার স্বামী ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। হোটেলের বিদ্যুতের লাইনে সমস্য ছিল বলেও স্বীকার করেছেন হোটেল মালিকের স্ত্রী। লিপির ভাষ্য, তার স্বামী বিরেশ্বর সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনে মোট হোটেল সংখ্যা ২০টি। প্রতি তলায় চার থেকে পাঁচটি হোটেল রয়েছে। প্রতিনিয়ত এভাবে হোটেল সংখ্যা বাড়ছে। সকাল থেকে হোটেল মালিক পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Walton
Walton