ফাইল ছবি
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের এক সংবেদনশীল সময়ে ঢাকায় দায়িত্বপালন করতে আসছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত এপ্রিলে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে অবহিত করে নয়াদিল্লি। এরপর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ই জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ত্রিবেদী এবং তার কাছ থেকে নিয়োগসংক্রান্ত লেটারস অব ক্রিডেন্স গ্রহণ করেন। ঢাকায় এসে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন তিনি।
ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক বর্তমানে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের এক পর্যায়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ভারতের পুশইনের অপচেষ্টার ফলে দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় একজন ঝানু রাজনীতিককে ঢাকায় দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে আপাতত ইতিবাচক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকায় ভারতের সর্বশেষ হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রণয় ভার্মা। তিনি গত ২৮ মে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার পরবর্তী দায়িত্বস্থল হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বেলজিয়াম, যেখানে তিনি ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ভারতের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের শেষ সময়, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদ এবং বিএনপি সরকারের শুরুর পর্যায় প্রণয় ভার্মা এই তিন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতির মাঠ থেকে কূটনীতিক: রাজনীতির মাঠ থেকে কূটনীতির অঙ্গনে আসা দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের পরিচিত মুখ। ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন তিনি। দুই বাংলার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে তার পড়াশোনাও রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের কারও কারও ধারণা, রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়াতেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন।
গুজরাটি পরিবারে জন্ম নেয়া ত্রিবেদী কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। আশির দশকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সর্বশেষ বিজেপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। পরে রাজ্যসভা সদস্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালের পর তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচিত ত্রিবেদী এবার কূটনীতিকের ভূমিকায় ঢাকায় আসছেন।




