Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬

পাল্টা আঘাত শুরু করল ইরান : মার্কিন পঞ্চম নৌবহরেও হামলা

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪০, ১১ জুন ২০২৬

প্রিন্ট:

পাল্টা আঘাত শুরু করল ইরান : মার্কিন পঞ্চম নৌবহরেও হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ইরানের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরে একাধিক সমন্বিত পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। এসব অভিযানে বাহরাইনসহ পুরো অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

প্রকাশিত বিবৃতিগুলোতে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খবর প্রেস টিভি’র।আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ও নৌবাহিনী দুটি পৃথক ধাপে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযান ছিল আইআরজিসির উপকূলীয় ঘাঁটি, সেবাদানকারী ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোস্ট এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর এলাকায় চালানো হামলার প্রতিশোধ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপরাধী মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি।’
 
বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলাইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতর জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে।
 
দফতরটির এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন অংশে হামলার জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী বিস্ফোরকবাহী বিভিন্ন ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে আঘাত হেনেছে।’
 
পাল্টা হামলায় নৌবহরের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ অ্যান্টেনা ও রাডার সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা যেকোনো সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ‘আগ্রাসীদের শাস্তি’ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, সাম্প্রতিক আগ্রাসন থেমে যাওয়ার পেছনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘শক্তিশালী ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
 
একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ শিগগিরই বন্ধ হবে। তার দাবি, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সর্বশেষ হামলা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে আইআরজিসি এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাহিনীটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘যুদ্ধ থেকে পালানোর একটি অজুহাত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
 
খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরও জানিয়েছে, মার্কিন নৃশংসতার জবাবে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে তারা এর সময়সূচি বা পরিধি সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
এই সমন্বিত পাল্টা হামলার আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীও নিশ্চিত করে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই আগ্রাসনের জবাবে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।তারা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই মুহূর্ত থেকে অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার কারণে হরমুজ প্রণালী সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এর মধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজও অন্তর্ভুক্ত। এই পথে যেকোনো চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’

এই ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Walton
Walton