ছবি: সংগৃহীত
উন্নয়ন সমন্বয় ‘খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ’ কনফারেন্স রুমে “বাজেট ২০২৬-২৭ ও বাংলাদেশের আর্থিক খাত: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক প্রাক-বাজেট সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাহফুজ কবীর। ড. কবীর তার পর্যালোচনায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির দীর্ঘায়িত প্রভাব, বেসরকারি বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহের দুর্বলতা এবং ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপী ঋণ ও সুশাসন সংকট বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সোমবার (৯ জুন ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আসন্ন বাজেটে আর্থিক খাতের পুনর্বিন্যাস ও পুনরুদ্ধারের ওপর, বিশেষ করে অর্থনীতির গতি সচল করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তাদের জন্য ভরসার পরিবেশ সৃষ্টি করে বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন সেমিনারের বক্তারা।
সেমিনারের প্রধান অতিথি সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতিতে যদি আমরা খেলাপি ঋণ কমাতে ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে না পারি তবে ব্যাংকিং খাতে তার প্রভাব পড়বে। বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ কমেছে; রপ্তানি কমেছে; ক্যাপিটাল ম্যাশিনারিজ আমদানি কমেছে; এলসি কমেছে। এ অবস্থায় ব্যাংক রিকভারি করার জন্য রিফাইনান্সিং প্রয়োজন। ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে পুরো বিনিয়োগ কাঠামো গড়ে উঠতে পারে না। এজন্য আর্থিক খাতের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মূলপ্রস্তাবনা ও আলোচকদের মতামতের ভিত্তিতে আসন্ন বাজেট কেমন চাই-কিছু নীতি-প্রস্তাবনা উঠে আসে, যা পরবর্তীতে পলিসি ব্রিফ আকারে নীতি-নির্ধারক ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের কাছে পৌঁছে দেবার আশা ব্যক্ত করে সেমিনারটি শেষ হয়।
প্যানেল আলোচক ড. শহীদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাঁধে সব ধরনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় না রেখে আরও বিভিন্ন রকমের আর্থিক কোম্পানি গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনতে সরকার আরও উদ্যোগী হলে সরকারেরও পর জনগণের আস্থা বাড়বে।
ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও আমানতকারীর আস্থা ফিরে আসলে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি তাঁর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ড. রুমানা হক বলেন, করোনা ও রাজনৈতিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাখাত ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা বাড়বে এবং এজন্য ব্যাংকিংখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকএশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হোসাইন। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়ছে। দেড়/দুইবছরে প্রথমদিকে রিজার্ভ বেড়েছিল, মূল্যস্ফীতি কমছিল। মূল্যস্ফীতি যদি বাড়ে একই সাথে সুদের হারও বাড়ে, তবে তা ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতির ইঙ্গিত দেয়। ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ আছে ১২টা ব্যাংকে, সেখানে বিনিয়োগ বাড়বে কিভাবে? প্রবৃদ্ধি বাড়বে কিভাবে? ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুঁজি বাড়াতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে। FDI কিভাবে এট্রাক্ট করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। সেমিনারের সভাপতি খোন্দকার সাখাওয়াত আলী উন্মুক্ত আলোচনার জন্য ফ্লোর দেন। এতে সংশ্লিষ্টরা তাদের অভিমত তুলে ধরেন।




