Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

ফাল্গুন ১২ ১৪৩০, রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পিতা

প্রকাশিত: ০০:২০, ২৩ জুন ২০২৩

প্রিন্ট:

ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পিতা

ছবি- সংগৃহীত

গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের সালুয়াটেকি গ্রামের বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। মামলা দায়েরর প্রায় তিন বছর হলেও এখনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি পিবিআই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর হাবিবুল্লা স্মরণিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মফিজ উদ্দিন।

বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলে ইদ্রিস আলী (৩০) গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানাধীন টোক ইউনিয়ন ভুক্ত সালুয়াটেকি গ্রামস্থ মোতালেব ভূঁইয়ার ছেলে রবিন ভূঞা এবং মোতালের ভূঁইয়ার নাতী জহির আহসান আহিদদের জমি জমা রক্ষনাবেক্ষন এবং বেচা-বিক্রির দায়িত্বে পালন করত।

প্রথমে ইদ্রিস আলী রবিন ভূঞার কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ করত। পরবর্তীতে জাহিদ তার মায়ের ওয়ারিশী সম্পত্তি দখল ও বিক্রি করার জন্য ভিকটিম ইদ্রিস আলীকে কেয়ারটেকার হিসাবে রাখে। কিছুদিন জাহিদের কাজ করলেও পরে অনীহা প্রকাশ করলে ইদ্রিস আলীর সহিত দ্বন্ধ শুরু হয়। এসময় ভিকটিম ইদ্রিস আলী পুনরায় রবিন ভূঞার সাথে কাজ শুরু করে। 

এর কিছু দিন পরে ভিকটিম ইদ্রিস নিখোঁজ হলে মা মোরশেদাসহ পরিবারের লোকজন খোজাঁখুজির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত্ জাহিদ এর নানা এবং রবি ভূঞার পিতা মোতালেব ভূঁইয়ার বাড়ির দক্ষিন পার্শ্বে পুকুর পাড়ে ইদ্রিসের লাশ মাথা ও গলায় কাটা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পাওয়া যায়।

ধারনা করা হয় পরিকল্পনা মতে ২০২০ সালে ২৪ আগষ্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২৫ আগষ্ট সকাল সকাল ৮টার মধ্যে যেকোন সময় রবিন ভূইয়াসহ তার সহযোগিরা ইদ্রিস আলীকে হত্যা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা মোরশেদা এজাহার নামীয় জাহিদসহ ১০/১২ জনকে আসামী করে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। চার মাস পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর জেলা পিবিআই। 

পিবিআই এর তদন্তে বেরিয়ে আসে রবিন ভূঁইয়া তার ভাগিনা জাহিদকে ওয়ারিশী সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত করার জন্য ভাগিনাকে ফাঁসাতে ইদ্রিসকে হত্যার পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে পিবিআই রবিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করলে সে হত্যার ঘটনা স্বীকারে আরো চার জনের নামোউল্লেখ করে। পরবর্তীতে রবিন ভূইয়া জামিনে বের হয়ে আসে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে পিবিআই পুলিশ, প্রধান আসামী রবিন ভূইয়াসহ তার স্বীকারোক্তি আরো যে চার জনের নাম বলেছে তাদের ধরাছোয়ার বাহিরে রেখে মামলায় উল্লেখিত জাহিদসহ অন্যান্যদের নিয়ে মামলার কার্যক্রম চলাচ্ছেন। তাই প্রধান আসামী রবিন ভূইয়া এখন রয়েছেন ধরাছোয়ার বাহিরে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, রবিন ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া হত্যার সাথে জড়িত আরো কয়েকজনের নাম সে বলেছে। আমরা তাদেরও গ্রেপ্তার করেছি। খুব শিগ্রই মামলার চার্জসিট দেয়া হবে। তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। তাছাড়া আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়া আসামীদের কোন ভাবে মামলা থেকে বাদ পড়ার সুযোগ নেই।

Walton Refrigerator Freezer
Walton Refrigerator Freezer