Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শমশেরনগর মুক্ত দিবসে শোভাযাত্রা:মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ


০৩ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:৩১  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


শমশেরনগর মুক্ত দিবসে শোভাযাত্রা:মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ

মৌলভীবাজার : ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর কমলগঞ্জের শমশেরনগর মুক্ত হয়। ৪৮ বছর আগে এই দিনে পাকিস্তানিদের প্রতিহত করে মুক্তিযোদ্ধারা কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর মুক্ত করেন। মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনাদের প্রতিহত করে মুক্তিযোদ্ধারা শমশেরনগর মুক্ত করে। ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণে শমশেরনগর সাহিতাঙ্গণের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে শোভাযাত্রা শেষে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ডাক বাংলোর বটতলায় স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মঙ্গলবার বেলা ১টায় শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা করে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

শমশেরনগর পশ্চিম বাজারস্থ ডাক বাংলোর ঐতিহাসিক বট তলায় কলেজ শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের অংশ গ্রহনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর মুক্ত দিবস ও শমশেরনগর ডাক বাংলোয় ১৯৭১ সালের কক্ষ সম্পর্কে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাহিতাঙ্গনের প্রধান ও সুজা মেমোরিয়াল কলেজ অধ্যক্ষ ম মুর্শেদুর রহমান। স্মৃতিচারণ মুলক বক্তব্য রাখেন মো. মুজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল দাস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ রসময় মোহান্ত, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ১৯৭১ সালে শমশেরনগর ডাক বাংলোয় নির্যাতেন শিকার শহীদ পরিবার সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির।

৭১ এর ২৮ মার্চ প্রথম শমসেরনগরে মুক্তিকামী বাঙ্গালীদের প্রতিরোধ আন্দোলনে পাক সেনা ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করে ও পরবর্তীতে এখানে ক্যাম্প স্থাপন করে পাক সেনারা নিরিহ বাঙ্গালীদের নির্মম নির্যাতন করে। ধলাই সাব সেক্টরে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের সহযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাজ্জাদুর রহমান বধ্যভূমিতে হত্যার বর্ণনা তুলে ধরেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় শতাধিক শিক্ষার্থীরা নিরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তযুদ্ধকালীন পাক সেনাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনে।

মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য বক্তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, আজও ইতিহাসের স্বাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বটবৃক্ষ, রয়েছে ডাকবাংলো ও নির্যাতন কক্ষ। এগুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি এখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করার।

দীর্ঘ নয় মাস পাক সেনারা শমশেরনগরে শক্ত ঘাটি স্থাপন করে নারকীয়ভাবে নির্যাতন পরিচালনা করে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে স্থানীয় বিমান বন্দরের রানওয়ের বধ্যভূমিতে। এখানে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় ঠিকে থাকতে না পেরে পাক সেনারা ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর ছেড়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরের দিকে পিছু হটে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।