Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ আষাঢ় ১৪২৮, বুধবার ১৬ জুন ২০২১, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

লন্ডন,মাদ্রিদ, ইডেনের প্রাক্তন নাকি বর্তমান-কে হবে জয়ী?


০৫ মে ২০২১ বুধবার, ০২:০২  পিএম

ভুঁইয়া ওয়াসেক ফয়সাল, স্পোর্টস এডিটর

বহুমাত্রিক.কম


লন্ডন,মাদ্রিদ, ইডেনের প্রাক্তন নাকি বর্তমান-কে হবে জয়ী?

সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ান্স লীগের সেমিফাইনালে চেলসি । আগামিকাল রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ০-০ ড্র করলে অথবা ১-০ গোলে জিতলেই ২০১২ সালের পরে বিগত নয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ান্স লীগের ফাইনালে উঠে যাবে। কি শুনতে খুব সহজ মনে হচ্ছে ? ব্যাপারটা মোটেও অতটা সহজ নয় !

ইতিহাস

চ্যাম্পিয়ান্স লীগের ইতিহাসের কথা বলতে গেলে একপাক্ষিক ভাবে তা শুধু রিয়াল মাদ্রিদের কথাই বলবে কেননা চ্যাম্পিয়ান্স লীগের ১৩টি শিরোপা যে তাদেরই দখলে। অপরদিকে চেলসি ২০১২ সালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ান্স লীগ জিতে নেয়। তো চ্যাম্পিয়ান্স লীগে খেলার অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচ জিতার সাহস, সামর্থ্যের দিক দিয়ে সবাই রিয়াল মাদ্রিদকেই এগিয়ে রাখবে।

প্রথম ম্যাচের ফলাফল

গত মাসের ২৮ তারিখ রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ১ম লেগের খেলায় ১-১ এ সমতা নিয়ে মাঠ ছারে দুই দল। চেলসির টিমো এবং হাকিম জিয়েচ সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে খেলার ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। খেলার প্রথম ৩০ মিনিট চেলসি নিয়ন্ত্রনে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ খুব ভালোভাবে খেলায় ফিরে আসে। চেলসির ফরমেশন ছিলো ৩-৪-৩ অপরদিকে রিয়াল মাদ্রিদের দলনেতা সার্জিও রেমোস না থাকায় ৫ জন ডিফেন্ডার নিয়ে ৩-৫-২ ফরমেশন নামায় ডিফেন্সকে ভারী করার জন্য।

খেলার ১৪ মিনিটে চেলসির ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে অসাধারন গোলের প্রেক্ষিতে ২৯ মিনিটের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের কারিম বেঞ্জেমা চেলসির ডি-বক্সে পাওয়া এক বলে এক দুর্দান্ত ভলিতে ১-১ গোলে সমতা আনেন। পুরোটা সময় জুড়েই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও ৯০ মিনিট শেষে খেলার ফলাফল ১-১ গোলে সীমাবদ্ধ থাকে।

সম্ভাব্য লাইন আপ এবং ফরমেশনঃ ৩-৪-৩ (চেলসি)

                        চেলসির সম্ভাব্য একাদশ

কভাচিচ ছাড়া চেলসির সবাই আগামীকালের ম্যাচে খেলতে পারবে। ক্যাসিমিরো, টনি ক্রুস, মদ্রিচের মত মিডফিল্ডারের সাথে পাল্লা দিতে কভাচিচের বিকল্প কেউ নাই চেলসির লাইনআপে। মিডফিল্ড সামলানোর পাশাপাশি মিডফিল্ড থেকে বল ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে নিয়ে যাওয়ার কাজটা কভাচিচ ছাড়া আর কাউকে দিয়ে হবে কিনা সন্দিহান। কারন জর্জিনহো সাধারনত ড্রিবলিং করে না পাশাপাশি জর্জিনহোর গতি কম হওয়ায় প্রতিপক্ষের দ্রুতগতির কাউন্টার আটকানোর ব্যাপারে জর্জিনহোর কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। জর্জিনহোর পজিশনটা একেবার দুইজন সেন্টারব্যাকের কিছুটা উপরে, ওই পজিশন থেকে সামনে ক্রিয়েটিভ পাস দিতে গেলে ভুল হওইয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি এবং ওই পজিশনে ভুল পাস দিলে গোল খাওয়ার সম্ভাবনা ৮০%।

তাই জর্জিনহোকে বল নিয়ে ড্রিবলিং করে সামনে যাওয়া অথবা ক্রিয়েটিভ পাস দিতে খুবই কম দেখা যায়। একাডেমী প্লেয়ার ম্যাসন মাউন্টের জন্য এ বছরটি উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে। মিডফিল্ড থেকে এসিস্ট অথবা ফরোয়ার্ডের জন্য স্পেস তৈরি কিংবা প্রতিপক্ষের কোনো গুরুত্বপুর্ন খেলোয়ারকে কড়া মারকিং এ রাখতে চেলসি হেডকোচ টমাস টুচেল ম্যাসন মাউন্টকেই বেছে নিবেন।

কান্তেকে হয়তো দেখা যাবে ক্রুস কে স্পেস না দিয়ে মাদ্রিদের আক্রমনকে শান্ত রাখার দায়িত্বে। তাছাড়া চেলসি টিমো ওয়ার্নার এবং পুলিসিচের পেস কাজে লাগিয়ে কাউন্টার এটাকে খেলার চেষ্টা করবে। চেলসির যেহেতু একটি এওয়ে গোল রয়েছে এবং চেলসির ডিফেন্স খুব কম গোল হজম করেছে সেহেতু মনে হচ্ছে চেলসি কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলবে।

সম্ভাব্য লাইন আপ এবং ফরমেশনঃ ৪-৩-৩ (রিয়াল মাদ্রিদ)

                      রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য একাদশ

মোটামোটি ভাবে বলা যায় ম্যাচটির ফলাফল নির্ভর করবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রনের উপরে। কেসিমিরোর ডেস্ট্রয়ার রোল, ক্রুসের ডিফেন্স চেরা পাস, মদ্রিচের ক্রিয়েটিভ পাসগুলোই খেলার ফলাফল নির্ধারন করে দিবে। চেলসি মাদ্রিদের মিডফিল্ড সাম্লাতে পারলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন দরে রাখতে পারবে।

ফরোয়ার্ড লাইনে হ্যাজার্ড, বেঞ্জামা নেতৃত্ব দিবে। বহুদিন পর ইনজুরি থেকে ফিরে নিজের পরিচিত স্ট্যাম্ফোর্ড ব্রিজে কি করবে তা দেখার জন্য চেলসি এবং মাদ্রিদ সমর্থক সবাই চেয়ে থাকবে হ্যাজার্ডের দিকে। তাছাড়া করিম বেঞ্জামা হবে মাদ্রিদের এক্স-ফ্যাক্টার। বহুদিন ধরেই মাদ্রিদের আক্রমনভাগকে একাই সামাল দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত ম্যাচেও গোল করেছেন তিনি, তাই বলা যায় দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

মাদ্রিদ দলনেতা রেমোস ব্যাক করায় মাদ্রিদ চারজন ডিফেন্ডার নিয়েই খেলবে যদি রেমোস মাঠে নামে। কারভাহাল এবং ভাস্কেজ আহত থাকায় লন্ডনে আসেনি খেলতে। এদিকে রেমোস এ বছর মাত্র ১২৫ মিনিট খেলেছেন এবং মেন্ডিও অনেকদিন ইঞ্জুর্ড ছিলেন। রেমোস এবং মেন্ডি শেষের প্র্যাক্টিস সেশনে অংশ গ্রহন করেছেন মাত্র। সদ্য ইনজুরি থেকে ফিরেই সেমিফাইনালের মত ম্যাচে আদৌ তারা নামবেন কিনা আর যদি নেমেই থাকেন তবে কতটুকু কার্জকর হবে তা সময়ই বলে দিবে।

এখন পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কাছে না হার মানা টুচেল জিতবে নাকি মাদ্রিদের ম্যানেজার হয়ে তিনবার চ্যাম্পিয়ান্স লীগ জেতা জিনেদিন জিদান জিতবে তা দেখার জন্য আমাদের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১:০০ টায় টিভির পর্দায় চোখ রাখতে হবে আর দর্শক হিসেবে আমাদের চাওয়া হচ্ছে একটি জমপেশ সেমিফাইনাল ম্যাচ। চেলসিকি পারবে তাদের মহিলা দলের মত এইবছর চ্যাম্পিয়ান্স লীগের ফাইনালে উঠতে নাকি এই ইনজুরি জর্জরিত দল নিয়ে ১৪তম বার ফাইনাল জেতার দিকে রিয়াল মাদ্রিদ আরেকধাপ এগিয়ে যাবে ?

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।