Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, রবিবার ১৬ মে ২০২১, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ভাইয়ের জিডি

‘মামুনুল আমার বোনকে বিয়ে করার চুক্তিনামা দেখিয়েছেন’


১২ এপ্রিল ২০২১ সোমবার, ১২:৩৮  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


‘মামুনুল আমার বোনকে বিয়ে করার চুক্তিনামা দেখিয়েছেন’

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হকের ‘তৃতীয় প্রেমিকা’র সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জান্নাত আরা ঝর্নার মতো ডিভোর্সি এই নারীর সঙ্গে মামুনুল হকের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি ইউনিট মামুনুল হক সম্পর্কে ছায়া অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই তথ্য পায়।

এই নারীকে এতদিন তারা প্রথম স্ত্রী ধারণা করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনে মামুনুল হকের একাধিক ফোনালাপ ফাঁস ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তৃতীয় প্রেমিকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন।

এদিকে, শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি তাঁর বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।

জান্নাতুলের ভাই পরিচয় দেওয়া মো. শাহজাহান জিডিতে বলেছেন, ‘মামুনুল হক তাঁর বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে বিয়ে করেছেন বলে তাঁকে ডেকে বিয়ের চুক্তিনামা দেখিয়েছেন। তবে তাঁর বোনের কোনো সন্ধান তাঁরা পাচ্ছেন না। বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য জিডিতে তিনি আইনি সহায়তা চেয়েছেন।’

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে নিজের ও মায়ের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পল্টন থানায় মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ওরফে ঝর্নার ছেলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জান্নাত মামুনুল হকের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে গিয়েছিলেন। সেখানে মামুনুল হক তাঁকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপির বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানারহাওলা গ্রামে। মো. শাহজাহান বলেছেন, গত বুধবার তাঁর বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এই সময় বোন জানিয়েছিলেন তিনি মোহাম্মদপুরে দিলরুবা আপার বাসায় আছেন। এর মধ্যে গতকাল মামুনুল হক তাঁকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে জানান তাঁর বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপিকে তিনি বিয়ে করেছেন। মামুনুল চুক্তিনামা দেখান। তবে আজ পর্যন্ত তিনি বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি। তাঁর বোন বর্তমানে কোথায়, তা জানা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া ও অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য তিনি আইনি সহায়তা চান।

জিডিতে উল্লেখ করা মুঠোফোন নম্বর ধরে ফোন করে শাহজাহানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ বলেন, শাহাজাহান জিডিতে যে তথ্য দিয়েছেন, তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে পল্টন থানায় জান্নাত আরা ওরফে ঝর্নার ছেলে রহমানের (১৭) করা জিডির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার কাছে থাকা তার মায়ের তিনটি ডায়েরি নিরাপত্তার জন্য পল্টন থানায় জব্দ করা হয়েছে।

পল্টন থানায় দায়ের করা জিডিতে রহমান লিখেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সে মায়ের খোঁজ পাচ্ছিল না। ৮ এপ্রিল সে বাগেরহাট থেকে ঢাকায় আসে। নর্থ সার্কুলার রোডের যে বাসায় তার মা ভাড়া থাকতেন, সেখানে গিয়ে জানতে পারে, ৩ এপ্রিল থেকে মা বাসায় ফেরেননি। ঘরে ঢুকে সে মায়ের তিনটি ডায়েরি ও ব্যাংকের চেক বই পায়। ডায়েরি নিয়ে সে পল্টন এলাকায় যায়। তার মনে হয়, কিছু লোক তাকে অনুসরণ করছে। ডায়েরিগুলো সংরক্ষণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সে শঙ্কিত হয়ে পড়ে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।