Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ কার্তিক ১৪২৭, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

চা শ্রমিকদের ১২০ টাকা মজুরি চুক্তি স্বাক্ষর : একাংশের প্রত্যাখান


১৬ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার, ০৫:৫৩  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


চা শ্রমিকদের ১২০ টাকা মজুরি চুক্তি স্বাক্ষর : একাংশের প্রত্যাখান

চা বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক মজুরি চুক্তি হয়েছে। দীর্ঘ ২২ মাস উত্তীর্ণ হওয়ার পর মজুরি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে চা শ্রমিকদের দৈনিক সর্ব্বোচ্চ মজুরি ১২০ টাকা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল প্রফিডেন্ট ফান্ড অফিসে দিনভর বৈঠক শেষে শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক ব্যতিত দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এই চুক্তি সন্তোষজনক নয় দাবি করে চা শ্রমিক সংঘসহ একাংশ প্রত্যাখান করে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চা বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১০২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বৃদ্ধি করে ১২০ টাকা মজুরি করা হয়েছে। এতে চা শ্রমিকদের মজুরি এ-ক্লাস বাগানে ১২০ টাকা, বি ও সি-ক্লাস বাগানে ১১৮ ও ১১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসব বোনাসে ৪৫ দিনের মজুরির স্থলে ৪৭ দিন করা হয়েছে।

এরপূর্বে ২০১৫ সনের ৬ অক্টোবর চা শ্রমিকদের মুজরি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে ৬৯ টাকা থেকে ৮৫ টাকায় উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সনের ২০ আগষ্ট স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পূর্বের চুক্তি স্বাক্ষরেরও দীর্ঘ ২০ মাস পর। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় ২০১৯ সনের জানুয়ারীতে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চুক্তির মেয়াদ কার্যকর থাকবে।

গত ১৫ অক্টোবর দ্বিপাক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরীর স্বাক্ষর নেই। স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সনের জানুয়ারী থেকে। চুক্তিতে বাংলাদেশীয় চা সংসদ এর পক্ষে তাহসিন এ চৌধুরী, আলতামাস হাসান, মো. সেলিম রেজা, রিয়াজ উদ্দীন প্রমুখ। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা, পরেশ কালিন্দি, নৃপেন পাল, পঙ্কজ এ কুন্দা, ধনা বাউরী প্রমুখ।

তবে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে শমশেরনগর, কানিহাটি, আলীনগর চা বাগানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে অযৌক্তিক এই চুক্তি প্রত্যাখানের দাবি জানায়। নারী চা শ্রমিক লছমি রানী রাজভর, আশা অরনাল, কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, শমশেরনগর চা বাগান জাগরন যুব ফোরামের আহ্বায়ক মোহন রবিদাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মালিক পক্ষের স্বার্থের এই চুক্তির মধ্যদিয়ে শ্রমিকদের ঠকানো হয়েছে। এটি মোটেও বাস্তবসম্মত হতে পারে না।

এদিকে ১২০ টাকার মজুরি চুক্তিতে প্রত্যাখান জানিয়ে মৌলভীবাজার চা শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী ও যুগ্মআহ্বায়ক হরিনারায়ন হাজরা শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্বগতির বাজারে চাল, আলু, পেঁয়াজসহ পন্যদ্রব্যের দামের তুলনায় ১২০ টাকায় পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবারে কিছুই হবে না। তারা গণস্বাক্ষরে মজুরি বোর্ডের কাছে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬৭০ টাকা দাবি করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন চা সেক্টরে সরকার গঠিত নি¤œতম মজুরি বোর্ড মজুরি নির্ধারণের কাজ অগ্রসর করে চলেছেন, সেরকম সময়ে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমকে কার্যত নিস্ত্রিয় করে অতীতের ধারায় দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি করা হয়েছে? তারা এই চুক্তি প্রত্যাখান করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাখন লাল কর্ম্মকারের মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্পাদক রামভজন কৈরীর মোবাইলে বার বার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সত্যতা নিশ্চিত করে বালিশিরা ভ্যালী ও মনু-ধলই ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা ও ধনা বাউরী বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর সবার সম্মতিতেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সম্প্রতি চা শ্রমিকরা আন্দোলনমুখর হয়ে উঠায় সবদিক বিবেচনা করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তারা বলেন, সম্পাদক রামভজন কৈরী অসুস্থ্য থাকায় চুক্তি স্বাক্ষরকালীন সময়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে বাংলাদেশ চা সংসদ এর সিলেট এর চেয়ারম্যান জি.এম. শিবলী এর মোবাইলে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চা বাগান ব্যবস্থাপক চুক্তি স্বাক্ষরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, করোনার প্রভাব এসব নানা কারনে চুক্তি স্বাক্ষরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ চুক্তিতে শ্রমিকরা সন্তোষ্ট বলে তিনি দাবি করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।