Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কায়েমকোলা কলেজ অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব : পাঠদান ব্যাহত


২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার, ১১:১০  পিএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কায়েমকোলা কলেজ অধ্যক্ষ পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব : পাঠদান ব্যাহত

যশোর : যশোরের ঝিকরগাছার কায়েমকোলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলী কদরকে ম্যানেজিং কমিটি অধ্যক্ষ পদে বহাল করেছে। কিন্তু তাকে মেনে নিতে নারাজ প্রভাষক মাহাবুবুর রহমান। তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করছেন।

দ্বন্দ্বের জেরে অধ্যক্ষ আলী কদর ও তার অনুসারী শিক্ষকদের ওপর হামলা ও হুমকি ধামকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষকদের বিভক্তির কারণে কলেজে নিয়মিত পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা বাজারের পাশেই ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কায়েমকোলা কলেজ। এটি এমপিওভুক্ত হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় সাড়ে তিনশ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কায়েমকোলা কলেজে মোট শিক্ষক ২১ জন। তাদের মধ্যে ১৬জন শিক্ষক প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলী কদরের অনুসারী। বাকী পাঁচজনের নেতৃত্বে প্রভাষক মাহবুবুর রহমান।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলী কদর বলেন, ‘আমি বহু কষ্টে কলেজটি প্রতিঠা করেছি। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে এটাকে দাঁড় করাতে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। কিন্তু, প্রথম থেকে অর্থনীতির শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আমাকে বিতাড়িত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। কোন কিছুতে না পেরে তিনি আমার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় প্রতারণার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

যার ভিত্তিতে ২০০৮সালে ঝিকরগাছা উপজেলার তৎকালীন ইউএনওর নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নুরুন্নাহার বেবিকে দায়িত্ব দেয়। আদালতে আমার বিরুদ্ধে মামলাটি মিথ্যা ও আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। সে কারণে ২৯ জুন গভর্ণিং কমিটির সভায় আমাকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়। কমিটির সভার সে সংক্রান্ত রেজুলেশনও আছে। ’

আলী কদর আরো বলেন, ৪ জুলাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুন্নাহার বেবির কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছি। ৬জুলাই কলেজে যোগদান করতে গেলে শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। এসময় কলেজের শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও হামলা চালায়। তারা কলেজের শিক্ষক এসএম আজিজুরকেও মারপিট করে এবং তার জামা ছিড়ে দেয়। এ বিষয়টি নিয়ে  তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

মাহবুবুর রহমান নিজেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে বলেন, ‘আলী কদর এক সাথে আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তার এখানে চাকরিই অবৈধ। সে কারণে এমপি সাহেব আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন।’ এমপি সাহেব তাকে কীভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দিয়েছেন।’ এ সংক্রান্ত কোন ডকুমেন্ট তার কাছে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না’।

কায়েমকোলা কলেজ গভর্ণিং কমিটির সভাপতি মুছা মাহমুদ বলেন, আলী কদরের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছিল তা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য তাকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। তিনিই বৈধ অধ্যক্ষ। অন্য কারো এটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই।’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।