Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭, শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০, ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

অপরুপ কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার দৃশ্যে মুগ্ধ ঠাকুরগাঁওবাসী


২৯ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:২৬  পিএম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


অপরুপ কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার দৃশ্যে মুগ্ধ ঠাকুরগাঁওবাসী

ঠাকুরগাঁও  কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার দৃশ্যে মুগ্ধ এখন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। আর এ দৃশ্য দেখার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন শহরের প্রায় অনেক জায়গায়।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়িরবাঁধ এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

গত কয়েক বছর ভালোভাবে দেখা না মিললেও এবার খালি চোখেই দেখা মিলছে সেই হিমালয় পর্বতের কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার। এমন একটি সময় ছিলো যে সময় হিমালয় পর্বতের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যেতে হতো। কিন্তু এখন আর যেতে হয়না দূরে। ঠাকুরগাঁও থেকেই দেখা যাচ্ছে এই অপরুপ দৃশ্যটি।

ঠাকুরগাঁওয়ের শহরের চৌরাস্তা, বাসস্ট্যান্ড, টাংগন ব্যারেজ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকার উচু জায়গায় গিয়ে উত্তর দিকে তাকালেই ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া’ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়,২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আক্চা ইউনিয়নের বুঁড়ির বাঁধ এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার প্রথম ছবি ক্যামেরাবন্দী করেন প্রকৃতি প্রেমী রেজাউল হাফিজ রাহী। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে ভাইরালে পরিণত হয়।

সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়ির বাঁধ এলাকায় কথা হয় স্থানাীয় বাসিন্দা জয়নালের সাথে। তিনি বলেন,শীতের শুরুর দিকে প্রতিবারেই কমবেশি এই কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যটা দেখা যায়। তবে গতবার শীতের তীব্রতা বেশি থাকার কারনে খুব এটা দেখা না গেলেও আজ অনেকটাই পরিস্কার ভাবে দেখা গেছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার এই অপরুপ দৃশ্যটি দেখতে এসেছেন আরমান হোসেন। তিনি বলেন,এটা সময় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া গিয়ে এই দৃশ্যটি চোখে পড়তো। কিন্তু আজ সকালে দেখি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই সৃন্দর এই দৃশ্যটি চোখে পড়ছে। অনেক ভালো লাগলো।

ঠাকুরগাঁওয়ের আলকচিত্রী ইমরান হোসেন বলেন,গতবার তেঁতুলিয়া গিয়ে এই ছবি নিতে হয়েছিলো। কারণ ঠাকুরগাঁওয়ে গতবার শীতের তীব্রতা খুব বেশি থাকার কারণে ভালো করে ক্যামেড়ার বন্দি করা যাচ্ছিলোনা। কিন্তু আজ শহরের বিভিন্ন উঁচু স্থান থেকেই এই কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্যটা দেখা যাচ্ছে। এটা যারা দেখেছেন তারাই বুঝতে পারে আসলে দৃশ্যটি কতোটা সুন্দর।

প্রকৃতিপ্রেমী ও আলকচিত্রী রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, ২০১৩ সালে বুড়িরবাঁধ এলাকায় পাখির ছবি তুলতে গিয়েছিলাম আমি । এরপর সেখান থেকেই প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার সর্বোচ্চ চূড়ার ছবিটি ক্যামারে বন্দি করি। পরে সেটি ফেসবুক পোস্ট করার মাধ্যমেই মানুষ জেনেছে শুধু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে নয় ঠাকুরগাঁও থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখা যায়। এরপর থেকেই মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে এসে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা শুরু করে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড.কেমএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, শুনেছিলাম শুধুমাত্র তেঁতুলিয়া থেকে ভারতের কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া এই দৃশ্যটি দেখা যায়। ঠাকুরগাঁওয়ে আসার পর জেনেছি ঠাকুরগাঁও শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা যাচ্ছে। আমি নিজেও এ জেলা থেকে অপরূপ এদৃশ্যে উপভোগ করেছি।

কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার দৃশ্যে মুগ্ধতা

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।