Bahumatrik Logo
২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, বুধবার ০৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

বিলীনের অপেক্ষায় ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি


২০ জুন ২০১৫ শনিবার, ০১:২২  এএম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


বিলীনের অপেক্ষায় ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি

কিশোরগঞ্জ: বিলীনের অপেক্ষায় ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়িটি। জেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার নরসুন্দা নদীর তীরে ঝোপঝাড়ঘেরা একটি স্থানই ঐতিহাসিক জঙ্গলবাড়ি। যা এখনই সংরক্ষণ করা না হলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এই জঙ্গলবাড়িকে বাংলার বার ভূঁইয়ার প্রধান বৃহত্তর ভাটির অধিপতি মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁ তার অন্যতম রাজধানী ও দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে পাকুন্দিয়া উপজেলায় রয়েছে ঈশা খাঁর দুর্গ এগারসিন্ধুরও।

এগারসিন্ধুরে ঐতিহাসিক নিদর্শনের তেমন কিছু না থাকলেও জঙ্গলবাড়িতে রয়েছে ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ‘প্রাসাদ প্রাচীর’সহ আরও কিছু ভবন। ইতিহাস গবেষক আমিনুল হক সাদী জানান, সংরক্ষণের অভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত জঙ্গলবাড়ি ও এগারসিন্ধুর। সাদী জানান, ২০০৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত জঙ্গলবাড়িটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণ করে আসছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উপ-পরিচালক (সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক) ড. মো. আতাউর রহমান বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছিলেন। বাড়িটিতে একটি সাইনবোর্ড ও নোটিস বোর্ড টানিয়ে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণাও জারি করেন। শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) রাখী রায় এ ব্যাপারে বলেন, এ বছরও জঙ্গলবাড়ি সংরণের কোনো প্রকল্প নেয়া যায়নি।

তবে সংরণের অভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক এ নিদর্শনটি যে বিপন্নদশায় পতিত হয়েছে এটা স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, আসলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমরা প্রকল্প গ্রহণ করছি। যত দ্রুত সম্ভব জঙ্গলবাড়ি সংরক্ষণের প্রকল্পও নেয়া হবে।

সরেজমিনে জঙ্গলবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, দুর্গনগরীর মূল ভবনেও ঈশা খাঁর উত্তর পুরুষের কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকির মধ্যে কাটছে তাদের দিন।

ঈশা খাঁর ১৫তম উত্তর পুরুষ দেওয়ান জামাল দাদ খান বলেন, মহাবীর ঈশা খানের দ্বিতীয় রাজধানী জঙ্গলবাড়ির দুর্গনগরী ও হাবেলি সংস্কার না হওয়ায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। বাড়িটিকে সংস্কার করে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে এলাকাটিকে প্রত্নপল্লী হিসেবে গড়ে তোলা হলে এখান থেকে সরকারেরও আয় হতে পারে।

তিনি জানান, ঈশা খাঁর ৬০ একর জমির মধ্যে বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে মাত্র পাঁচ একর।

জঙ্গলবাড়ি দুর্গ বহুদিন ধরেই বিপন্ন। ঈশা খাঁর আগেই বৌদ্ধ-হিন্দু আমলেই এগারসিন্ধুরে একটি দুর্গ ছিল। এখানকার বেবুদ্ধা রাজার দীঘিকে গবেষকরা গুরুত্বের সাথে নেন। এ এলাকায় পাওয়া মদ্রার সাথে উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া মুদ্রার মিলের কারণে তারা মনে করেন অনুসন্ধান চালালে এখানে খ্রিস্ট-পূর্বকালের প্রত্ন নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।

ঈশা খাঁর পরেও এগারসিন্ধুরে বহুদিন মোগলদের আধিপত্য ছিল। ১৬০৮ সালে ইসলাম খান চিশতীর অভিযানকালে এগারসিন্ধুর দুর্গটিতে খাজা ওসমান খাঁ অবস্থান করেছিলেন। পরে দুর্গটি ইসলাম খাঁর অধীনে আসে এবং তিনি এ দুর্গেই অবস্থান করতেন। 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।