Bahumatrik Logo
২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ

‘কবিতার মাঝেই বেঁচে থাকবেন রফিক আজাদ’


১৫ মার্চ ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৯:৩০  পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


‘কবিতার মাঝেই বেঁচে থাকবেন রফিক আজাদ’
ছবি-সংগৃহীত

ঢাকা : কবিতার মাঝেই বেঁচে থাকবেন কবি রফিক আজাদ। বেঁচে থাকবেন অগণিত পাঠকের নিবিড় স্মৃতিতে।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা একাডেমি এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের যুক্ত উদ্যোগে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সদ্যপ্রয়াত কবি রফিক আজাদ স্মরণে নাগরিক শোকসভায় এসব কথা বলেছেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

প্রয়াত কবির স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সভার কার্যক্রম।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাতের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি ড. মুহাম্মদ সামাদের সঞ্চালনায় শোকসভায় রফিক আজাদের কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি সৈয়দ শামসুল হক, কবি হারিসুল হক, রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, কবি হালিম আজাদ, নীরু শামসুন্নাহার, শাহাদাৎ হোসেন নিপু, কবি নাহার ফরিদ খান, কবি পিয়াস মজিদ, কবি হানিফ খান প্রমুখ। প্রয়াত কবি সম্পর্কে স্মৃতিচারণা ও মূল্যায়নে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আহমদ কবির, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি রবিউল হুসাইন, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, কবি রবীন্দ্র গোপ, কবি মোহাম্মদ সাদিক, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, কবি ও অনুবাদক নাজমুননেসা পিয়ারি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গণি, অনন্যা প্রকাশনের প্রকাশক মনিরুল হক, সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক আলম তালুকদার প্রমুখ।

রফিক আজাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাঁর অগ্রজ নূরুল ইসলাম খান, স্ত্রী কবি দিলারা হাফিজ, পুত্র অভিন্ন আজাদ বক্তব্য রাখেন।

রফিক আজাদের অগ্রজ নুরুল ইসলাম খান বলেন, কবি রফিক আজাদ মানুষ হিসেবে যে বিরাটত্বের অধিকারী ছিলেন তাই তাঁকে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে। স্ত্রী দিলারা হাফিজ বলেন, কবির সঙ্গে যে জীবন আমি কাটিয়েছি তাতে বলতে পারি মানুষটি ভালোবাসার জন্য তার জীবন ও কবিতাকে অভিন্ন করেছেন, ভালোবাসতে চেয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন। পুত্র অভিন্ন আজাদ বলেন, রফিক আজাদ শুধু আমাদের আক্ষরিক পিতা নন, আদর্শেরও পিতা। তিনি প্রথম কবি রফিক আজাদ তারপর পিতা রফিক আজাদ। প্রথম মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদ, তারপর পিতা রফিক আজাদ।

স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলা কবিতায় রফিক আজাদ এক অনিবার্য নাম। কবিতায় তিনি দেশ, মাটি ও মানুষের কথা যে অনন্য শিল্প আঙ্গিকে লিপিকৃত করেছেন তার কোন তুলনা হয়না। অস্ত্র হাতে তিনি দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন আর কলম হাতে লিখেছেন তার শ্রেষ্ঠ কবিতাÑ বাংলাদেশের কথা। মানুষ হিসেবে তিনি শোকের মানুষ ছিলেন না, ছিলেন চির- আনন্দের মানুষ। তাই তাঁর মৃত্যুতেও আমাদের কেবল শোক করা সাজে না বরং জীবনের সৃষ্টিশীল উদ্যাপনের শিক্ষাই রফিক আজাদ আমাদের দিয়ে যান।

তারা বলেন, একজন অসাধরণ কবি রফিক আজাদ ছিলেন একজন অসাধারণ সম্পাদকও। তাঁর সম্পাদিত বিভিন্ন পত্রিকার মধ্য দিয়ে তিনি যে সাহিত্যরুচির পরিচয় রেখেছেন তা আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে যে সততা, বন্ধুবৎসলতা ও উদারতার ছাপ তিনি রেখে গেছেন তা আমাদের স্মৃতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, রফিক আজাদ একদা বাংলা একাডেমির যে উত্তরাধিকার সাহিত্যপত্রের সম্পাদক ছিলেন সেই উত্তরাধিকার পত্রিকা তাঁর স্মরণে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে এবং আগামী বইমেলার আগেই রফিক আজাদ রচনাবলি প্রকাশ করবে।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, রফিক আজাদ যেমন কবি হিসেবে ছিলেন অনন্য তেমনি কবিতা পরিষদের সভাপতি হিসেবে যে দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন তা তাঁর সংগঠক সত্তারও পরিচয়বহ।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ শামসুল হক বলেন, রফিক আজাদ বেঁচে থাকবেন তাঁর অসাধারণ সব কবিতার মধ্য দিয়ে, থাকবেন তাঁর অগণিত পাঠকের নিবিড় স্মৃতিতে। একটি পরিপূর্ণ জীবন তিনি উদ্যাপন করে গেছেন আনন্দে, উল্লাসে, বেদনায়, কবিতায় ও স্বপ্নে। রফিক আজাদের কবিতার নিরন্তর পাঠের মধ্য দিয়েই আমরা স্মরণ করতে পারবো বাংলা কবিতা, বাংলা সাহিত্য ও আমাদের শিল্পভুবনের একজন অনন্য নক্ষত্রকে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।