ফাইল ছবি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খামেনির সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফন প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় দিন রোববার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো শোকাহত মানুষ জানাজার নামাজে অংশ নেন। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। তিনি একজন প্রভাবশালী ধর্মতাত্ত্বিক ও লেখক। তিনি কোমের সেমিনারি টিচার্স সোসাইটির সাবেক সদস্য এবং কোমের ইমাম সাদিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা।
নামাজ শুরুর আগেই মোসাল্লার ভেতরের সব জায়গা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই কমপ্লেক্সের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোসাল্লার আশপাশের সড়ক ও পথঘাটও খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার জন্য দোয়া করতে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উপস্থিত শোকাহতদের জন্য পুরো প্রাঙ্গণে পানি ছিটানোর মিস্টার স্থাপন করা হয় এবং স্বেচ্ছাসেবীরা ঠান্ডা পানি ও পানীয় বিতরণ করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা সহায়তার জন্য মোবাইল মেডিকেল ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।উপস্থিত শোকাহতদের জন্য পুরো প্রাঙ্গণে পানি ছিটানোর মিস্টার স্থাপন করা হয়
জানাজার নামাজ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে শহীদ সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, শহীদ মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং শহীদ জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে শহীদ নেতার নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার রাতেই খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়। শুক্রবার গ্রান্ড মোসাল্লায় শায়িত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।
গত শনিবার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লায় খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সূচনা হয়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। মূলত তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে। তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ সত্ত্বেওআজ রোববার (৫ জুলাই) ভোর থেকেই নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাতেও শহীদ নেতাকে স্মরণ করে বিশেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।




