Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

মাঘ ১৬ ১৪৩২, শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

ডেস্ক রিপোর্ট, বহুমাত্রিক.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিন্ট:

ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন আইনপ্রণেতারা ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক স্থগিতের নিন্দা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক অভিবাসীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের বিচ্ছিন্নতা ঘটাতে পারে। এছাড়া এর ফলে বৈধ অভিবাসন ব্যাহত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ জন আইনপ্রণেতা এক বিবৃতিতে এসব জানিয়েছেন।   

সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংস্থা কংগ্রেশনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাস (ক্যাপাক)-এর চেয়ারম্যান গ্রেস মেং নীতিটির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অজ্ঞতা ও অভিবাসন বিদ্বেষের প্রতিফলন। এই নিষ্ঠুর নীতি এমন অভিবাসীদের অনিশ্চয়তায় ফেলে দিচ্ছে, যারা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের সদস্যরা বিলম্ব না করে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।

ক্যাপাকের তথ্য অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছে মার্কিন নাগরিকদের নিকটাত্মীয়দের ভিসা, পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ভিসা, নিয়োগকর্তা-স্পন্সরকৃত ভিসা, ধর্মীয় কর্মী ভিসা, ডাইভারসিটি ভিসা এবং পুনঃপ্রবেশকারী বাসিন্দাদের ভিসা। আইনপ্রণেতাদের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতি বছর ইস্যু হওয়া মোট অভিবাসী ভিসার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় এই স্থগিতাদেশ পরিবারগুলোর পুনর্মিলন বিলম্বিত করবে, দক্ষ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে দেরি ঘটাবে এবং অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল ছোট ব্যবসাগুলোর প্রবৃদ্ধি সীমিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোমের কাছে পাঠানো যৌথ চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ও স্বচ্ছতাবিহীন বলে আখ্যা দেন। চিঠিতে বলা হয়, “এটি একটি নজিরবিহীন ও বৈষম্যমূলক নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশকে প্রভাবিত করছে।” একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত ঘোষণার জন্য প্রশাসনের সমালোচনা করা হয়, যেখানে নীতির পরিসর বা মেয়াদ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

আইনপ্রণেতারা স্টেট ডিপার্টমেন্টের সেই যুক্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর আবেদনকারীরা ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। তারা উল্লেখ করেন, বিদ্যমান অভিবাসন আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসনের দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন, সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট করা এবং নীতিটি বাস্তবায়নে কোনও ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন তারা।

Walton
Walton