ফাইল ছবি
বিতর্কিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইউনিফিকেশন চার্চ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী কিম কন হি। ইওল গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পৃথক আরেক মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিও রয়েছে।
স্বামী ইওলের ক্ষমতাচ্যুতির আগেই কিমের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে অন্তত দুই লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের উপহার ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে।
২০২৩ সালে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কিমকে ২ হাজার ২০০ ডলারের একটি বিলাসবহুল ব্যাগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনা ‘ডিওর ব্যাগ কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিতি পায় এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন-এর জনপ্রিয়তা আরও কমিয়ে দেয়।
এই কেলেঙ্কারি ২০২৪ সালের এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে ইউন-এর দলের বড় ধরনের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। কিমের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে বিরোধী দলসমর্থিত তিনটি বিল ভেটো করেছিলেন ইউন, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে। এক সপ্তাহ পরই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেন।
গত ডিসেম্বর আইনজীবীরা বলেন, কিম আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সংবিধাননির্ধারিত ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ নীতিকে দুর্বল করেছিলেন। আইনজীবী মিন জুং-কি অভিযোগ করেন, কিমের ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। গত মাসে শেষ সাক্ষ্যে তিনি নিজেকে আবারও নির্দেষ দাবি করেন। একই সঙ্গে ক্ষমাও চান। বলেন, ‘গুরুত্বহীন একজন মানুষ হয়েও আমি ঝামেলা সৃষ্টি করেছি—এর জন্য দুঃখিত।’
বুধবার মামলার রায়ে আদালত কিমকে শেয়ারমূল্য কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।




