Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

জ্যৈষ্ঠ ২৫ ১৪৩৩, বুধবার ১০ জুন ২০২৬

১২ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যুক্ত হচ্ছে সরকারি সার্ভারে

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪১, ৯ জুন ২০২৬

প্রিন্ট:

১২ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যুক্ত হচ্ছে সরকারি সার্ভারে

ফাইল ছবি

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা ১২ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য ও ডেটাবেজ বাংলাদেশ সরকারের একটি সার্ভারে যাচ্ছে। এই সার্ভার তৈরির কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষে শিগগিরই এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের ডেটা বাংলাদেশি সার্ভারে পাঠানো শুরু করবে। 

তবে এতদিন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) রোহিঙ্গাদের ডেটা শুধু ‘রিড অনলি অ্যাকসেস’ (দেখতে পারা) ছিল। গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দাবি জানিয়ে আসছে, রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার সরকারের কাছে থাকাও জরুরি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। কীভাবে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ডেটাবেজ সরকার সংরক্ষণ করতে পারে, তা ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এর আগের দুটি সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফোরামে আলোচনা হয়। সর্বশেষ কয়েকটি বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার হস্তান্তরের বিষয়টির গতি আসে। এর আগে তাদের যুক্তি ছিল– রোহিঙ্গাদের তথ্য বেহাত হতে পারে। এটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার পরিপন্থি। তবে বাংলাদেশ যুক্তি দিয়ে আসছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করায় রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার পাওয়ার ন্যায্যতা তাদের রয়েছে। এ ছাড়া এই তথ্য বেহাত হবে না।

যেসব রোহিঙ্গার ডেটাবেজ বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে, বর্তমানে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তাদের সবাই নিবন্ধিত রোহিঙ্গা। বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান) নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর এটি তৈরি করেছে। তবে এতকাল ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা এসব রোহিঙ্গার ডেটাবেজের তথ্য সরকারের কাছে ছিল না। 

গতকাল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কথা বলে অনেক বছর ধরে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ডেটাবেজ আমাদের হস্তান্তর করেনি ইউএনএইচসিআর। এখন তারা তথ্য দিতে রাজি হয়েছে। তথ্যগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, তার জন্য একটি কমিটি করা হয়। মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটির দেখভাল করবে। রোহিঙ্গাদের তথ্য আমরা পেলে তাদের বৈধ মোবাইল সিমকার্ড দেওয়া শুরু করবে বাংলাদেশ। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েক হাজার সিমকার্ড তাদের দেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক দিন ধরে তারা অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে থাকে। 

Walton
Walton