ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। আমাদের মতপার্থক্যগুলো নিয়ে যাতে আলাপ ও আলোচনা করতে পারি। আর আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে।’শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিএনপি।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে একজন বক্তা বলে গেছেন, সামানে আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম মতপার্থক্য আছে। আমাদের বিভিন্ন মতপার্থক্যগুলো নিয়ে যাতে আলাপ ও আলোচনা করতে পারি, আমাদের যেকোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস—যেটা আমরা ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ থেকে শুরু করতে যাচ্ছি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এনটিভি’র জহিরুল হক সাহেব, অনেক আগে আমার একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সম্ভবত উনাকে আমি বলেছিলাম অথবা মতি ভাই (মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী) এখানে উপস্থিত আছেন। সম্ভবত উনার সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম— আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে হোক ডেমোক্রেটিক প্রসেসটা চালু রাখতে হবে। আমাদেরকে জবাবদিহিতা চালু রাখতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল। আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থা থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর একটি জানাজা এবং আরেক পাশে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। আমার মনে হয়, এটি আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতা, কর্মী, সদস্য ও সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দু’টি বাছবিচার করার জন্য সবচেয়ে ভালো উদাহরণ যে, ৫ আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা একটি মানুষ একটি দল বা যেভাবেই আমরা বিবেচনা করি—তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। সেজন্য সকলকে অনুরোধ করবো—দলমত নির্বিশেষে, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হবো।
‘কিন্তু কোনোভাবেই যাতে সেটি মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজ সেজন্য অনেকের মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি। কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে’—উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে একজন বক্তা পানির কথা বলেছেন। তার সঙ্গে আমার কিছুদিন আগে কথা হয়েছিল। তার সামনে আমি আরও বিষয় তুলে ধরেছি। দেশে ফিরে আসার পরে যে কয়বার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সাভারে গিয়েছিলাম। আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে—নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে। নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি প্রজন্মই মনে হয় একটি গাইডেন্স চাইছে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি আমাদের কাছে হয়তো অনেক প্রত্যাশা। সকল প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে দেশের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয় আমার কাছে মনে হয়, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।’
অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরসহ অন্যান্য সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




