Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

আশ্বিন ১৫ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: চার মামলায় আসামি ১০০০

প্রকাশিত: ১৫:১৯, ১ অক্টোবর ২০২৬

প্রিন্ট:

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান: চার মামলায় আসামি ১০০০

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টি মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এরমধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় পৃথক একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে।

হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা রুজু করেছে। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। 

এদিকে এ বিষয়ে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।  

এর আগে, গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। 

সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বরের সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও বাধার মুখে পড়েন। 

এরপর দুপুরের দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
 

Walton
Walton