ফাইল ছবি
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠানরত ৫ দিনের জোড় ইজতেমায় লাখো চিল্লাধারী মুসল্লির ঢল নেমেছে। জোড় ইজতেমায় যোগ দিতে আসা তৃতীয় দিনে রবিবার আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ইজতেমায় গত তিন দিনে ৫ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার যে মুসল্লিদের মৃত্যু হয়েছে তারা হচ্ছেন, আবুল আসাদ বাদল (৬২), বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার ভার্থখোলা গ্রামে, পিতার নাম আব্দুল জহির। শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর মৃত্যু মুসল্লির নাম মইনইউদ্দিন (১০০)। তিনি সরাইল উপজেলার কোট্টাপাড়া এলাকায় নাজির উদ্দিনের ছেলে। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন, তাবলীগ জামাতের বাংলাদেশ শুরায়ে নেজামের মুখপাত্র ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।
এর আগে যারা মারা গেছেন তারা হলেন, আশরাফ আলী (৬০), পিতার নাম আব্দুল হাকিম, বাড়ি জামালপুর জেলার কেন্দুয়ায়। ঘুমন্ত অবস্থায় শনিবার ভোর রাতে আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়।
ইজতেমা শুরুর আগের রাতে মোহাম্মদ আলম (৮০) নামে এক মুসল্লী মারা যান বার্ধক্যজনিত কারনে। ইজতেমা শুরুর দিনে শুক্রবার হার্ট স্ট্রোক করে মারা যান চাঁন মিয়া (৬০) নামে অপর এক মুসল্লি।
এদিকে টঙ্গী তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) থেকে শুরায়ে নেজামের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া তাবলীগ জামাতের (বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতিমুলক সভা) রবিবার তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। মূল বিশ্ব ইজতেমার প্রায় ৪০ দিন আগে তাবলিগ জামায়াতে লাখো পুরাতন চিল্লাধারী মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে জড়ো হয়েছেন। জোড় ইজতেমায় যোগ দেয়া লাখো মুসল্লি এবাদত বন্দেগিতে সময় পার করছেন।
প্রতিবছর মূল বিশ্ব ইজতেমার আগে বিশ্ব ইজতেমার শুরায়ে নেজাম (মাওলানা জোবায়ের আহমেদ অনুসারী) আয়োজিত এ জোড় ইজতেমা তাবলিগ জামাতের বার্ষিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রস্তুতিমূলক ধাপ। শুরায়ে নেজামের গণমাধ্যম মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বছরের দাওয়াতি কাজের মূল্যায়ন দিকনির্দেশনা গ্রহণ এবং পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার জন্য এ জোড় ইজতেমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশের বহু তাবলীগ সাথী মুসল্লি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন স্হানে টিনশেড মসজিদের আশপাশে সমবেত হয়েছেন। সেখানে স্থাপিত বিশেষ মিম্বর থেকে শুরায়ের মুরব্বিরা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও নসিহত দিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, জোড় ইজতেমাকে ঘিরে ময়দানে থাকা সাথীদের জন্য থাকা-খাওয়া, বিরতি, নামাজ, খুৎবা ও বয়ানের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।জোড় ইজতেমায় তাবলীগের সাথীরা পুরো বছরের কাজের কারগুজারি পেশ করেন এবং মুরুব্বিদের থেকে রাহবারী নেয়ার সুযোগ পান।
এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের শুরায়ী নেজামের প্রবীণ মুরুব্বিগণ ইতোমধ্যেই টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। জোড় ইজতেমায় কেবল ৩ চিল্লার সাথী এবং কমপক্ষে এক চিল্লা সময় লাগানো মুসল্লিগণ অংশ নিয়েছেন। এতে করে জোড়ের স্বতন্ত্র মর্যাদা ও গুরুত্ব বজায় থাকে। উল্লেখ করা যেতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর এবারের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের জোড় ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তামুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




