Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ ফাল্গুন ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

১১ দফা দাবিতে চা-শ্রমিক সংঘের স্মারকলিপি প্রদান


০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৬:১৪  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


১১ দফা দাবিতে চা-শ্রমিক সংঘের স্মারকলিপি প্রদান

মৌলভীবাজার : চা শ্রমিকদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও উৎপাদনে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের খরচ বিবেচনা করে ন্যূনতম মজুরি দৈনিক ৬৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণসহ ১১ দফা দাবিতে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে নিম্নমত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে শহরের মনুসেতু সংলগ্ন কোর্টরোডস্থ বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কার্যালয়ে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে এক শ্রমিকসভা অনুষ্ঠিত হয়। চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হরিনারায়ন হাজরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ জেলা কমিটির সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ ২৩০৫ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং চট্টঃ ২৪৫৩এর সভাপতি মোঃ সোহেল মিয়া, চা-শ্রমিক সংঘের রাজনগর চাবাগানের নেতা নারায়ন গোড়াইত, সুনছড়া চা-বাাগানের নেতা প্রশান্ত কৈরী, লংলা চা-বাগানের নেতা সন্যাসী নাইড়–, ডাবলছড়া চা-বাগানের নেতা বাবুল রাজভর, নয়াপাড়া চা-বাগানের নারয়ন নায়েক, দীনেশ কর্মকার, রঞ্জু নাইড়ু প্রমূখ। পরে কোটরোর্ড হতে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহান চত্ত্বরে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।

পথসভা শেষে মৌলভীবাজার জেলা বিভিন্ন বাগানের ৬৯২ জন চা-শ্রমিকের গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করা হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি শ্রম প্রতিমন্ত্রী, শ্রম সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।

স্মরকলিপিতে উল্লেখ করা হয় চা-শ্রমিকরা বংশ পরস্পরায় প্রায় ১৬৬ বছর যাবত চা-বাগানে বসবাস করে বনের বাঘ-ভাল্লুক, সাপ-জোঁকসহ হিং¯্র জীবজন্তুকে মোকাবেলা করে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে চা-শিল্পকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। অনাহার-অর্ধাহার ক্লিষ্ট চা-শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলশ্রুতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে রেকর্ড পরিমান চা-উৎপাদন সম্ভব হয়।

২০১৯ সালের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ কোটি ৭৪ লাখ ১৪০ কেজি থেকে ২ কোটি ১০ লাখ কেজি বেশি অর্থাৎ ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। চা উৎপাদনের স্বর্ণালী এই সময়ে উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে মালিকদের মুনাফাও রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধি পায়। অথচ প্রতিদিন গড়ে ২৩ কেজি কাঁচা পাতা উত্তোলনের বিনিময়ে একজন চা-শ্রমিক ‘এ’ ক্লাস বাগানে দৈনিক মাত্র ১০২ টাকা মজুরি পান, ‘বি’ ও ‘সি’ ক্লাস বাগানে আরও কম। বর্তমান বাজারে একজন চা-শ্রমিক তাদের উৎপাদিত ২৫০ গ্রাম চা-পাতার মূল্যের সমান(খোলা বাজারে ৪০০ টাকার নিচে এক কেজি চা-পাতা পাওয়া যায় না) মজুরিও পাচ্ছেন না ।

চা বোর্ড অকশনের গড় মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজির কাঁচা পাতার মূল্য ২৫.৭৫ টাকা হিসেবে একজন চা-শ্রমিক প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৯২.২৫ টাকা মূল্যের কাঁচা চা-পাতা উত্তোলন করেন। মৌসুমে একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি পর্যন্ত কাঁচা চা-পাতা উত্তোলন করেন, অথচ নিরিখের অতিরিক্ত প্রতি কেজি চা-পাতা উত্তোলনের জন্য মালিকরা গড়ে ৩.৭০ টাকা দেন। মোটা চালের কেজি ৩০-৩৫ টাকা, আটা কেজি ৩০ টাকা, ডাল কেজি ১২০-১৩০ টাকা, লবন কেজি ৩০ টাকা, ডিম হালি ৪০ টাকা, তেল লিটার ১০০-১১০ টাকা, পিয়াজ কেজি ১২০-১৭০ টাকাসহ সকল নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে যখন মধ্যবিত্তের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে তখন একজন চা-শ্রমিক কি করে দৈনিক ১০২ টাকা মজুরিতে ৭/৮ জনের পরিবার চালাবে? ২০১১ সালে শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন দৈনিক ১৫০ টাকা, ২০১৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মহসীন আলী ২০০ টাকা দৈনিক মজুরি হওয়ার কথা বলেছিলেন, আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় সংসদে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এলাকার সংসদ সদস্য উপাধক্ষ ড. আব্দুশ শহীদ চা-শ্রমিকদের মজুরি কমপক্ষে ৫০০ টাকা করার জন্য বক্তব্য দেন। অথচ চা-সেক্টরের সিবিএ হিসেবে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন দাবিই করছে ২৬০/৩০০ টাকা। বস্তুত চা-শ্রমিক ইউনিয়ন মালিকদের স্বার্থেই ভূমিকা রেখে থাকে। এর প্রমান পাওয়া যায় গত ২৮ মে ২০১৮ বাংলাদেশীয় চা-সংসদের এক পত্র থেকে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ‘চা-শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশীয় চা-সংসদের নিকট হতে কোন অভাব/অভিযোগ পাওয়া যায়নি, কারণ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা খুব ভাল করেন জানেন তারা কত বেশি নগদ অর্থ ও দ্রব্যাদির সুবিধা গ্রহণ করেন।’ এছাড়া গত ৪ নভেম্বর ২০১৯ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘মজুরি চুক্তির বিষয়ে বাগান মালিকদের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা-বাগানের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন যেভাবে দাবি করে বাস্তবে সেভাবেই বাস্তবায়ন হচ্ছে। মজুরি চুক্তির বিষয়ে তাদের জোরালো ভূমিকা না থাকায় সময়ক্ষেপন হচ্ছে।’ অথচ প্রতিবেশি ভারতের আসামের চা-শ্রমিকরা দৈনিক ৩৫১ রূপি মজুরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি ন্যূনতম মূল মজুরি ২১ হাজার রুপি পেনশন ১০ হাজার রুপি ঘোষণাসহ ১২ দফা দাবিতে ভারতের সর্বস্তরের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ২৪ ঘন্টার ধর্মঘটে চা-শ্রমিকরা একাতœ হয়ে দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে শ্রীলঙ্কায় চা-শ্রমিকরা ১৮ কেজি নিরিখে দৈনিক ৭৩০ রুপি মজুরি পাচ্ছেন এবং আগামী ১ মার্চ ২০২০ থেকে দৈনিক ১০০০ রুপি মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে, নেপালে চা-শ্রমিকরা দৈনিক ২৭৮ রুপি মজুরি, কেনিয়ায় চা-শ্রমিকরা মাসিক ১৫,৯৫০ শিলিং থেকে ৫৩৮৯৭ শিলিং মজুরি পাচ্ছেন। উল্লেখ্য প্রতিবেশি দেশসমূহের চা-শ্রমিকরা আমাদের থেকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি পেয়ে থাকেন। ৭ জানুয়ারী ২০২০ প্রধানমন্ত্রী জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণে মাথাপিছু বার্ষিক আয় ১৯০৯ ডলার(১,৬২,০০৯.১৬ টাকা) অর্থাৎ মাসিক ১৩,৫০০.৭৫ টাকার তথ্য দেন। এরকম অবস্থায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে নূন্যতম ৬ সদস্যের একটি চা-শ্রমিক পরিবারের জন্য দৈনিক ৬৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করা জরুরী।

১১ দফা দাবিনামা :
১) (ক) চা শ্রমিকদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও উৎপাদনে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে চা শ্রমিকের দৈনিক (সকালের নাস্তা ২০ টাকা + দুপুরের খাবার ৪০ টাকা + রাতের খাবার ৪০ টাকা) ১০০ টাকা হিসেবে ৬ সদস্যের পরিবারের জন্য শুধু খাবার খরচ ৬০০ টাকা প্রয়োজন। এর সাথে আনুষঙ্গিক খরচযুক্ত করে এ পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি দৈনিক ৬৭০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। চা-শিল্পের মজুরি নির্ধারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে চলমান নামকাওয়াস্তে মজুরি বৃদ্ধির ধারা বাতিল করে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে নিয়মিত মজুরি নির্ধারণ করা।
(খ) দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতি, মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা বিবেচনা করে বার্ষিক ১০% হারে ইনক্রিমেন্ট প্রদান।

২) সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানে বেআইনী শর্ত বাতিল করে বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬(অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ১০৩(গ) ধারা অনুযায়ী বিনাশর্তে মজুরি প্রদান।

৩) কর্মে উপস্থিতির উপর নির্ভর করে উৎসব বোনাসের নামে উৎসাহ বোনাস দিয়ে শ্রমিক ঠকানোর অপকৌশল বন্ধ করে সকল শ্রমিককে এক মাসের মজুরির সমপরিমান বছরে দুইটি উৎসব বোনাস ও একটি উৎসাহ বোনাস প্রদান।

৪) চা শিল্পে শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ শ্রমআইন-২০০৬ এর ২৩৪ ধারা মোতাবেক কোম্পানীর লভ্যাংশের ৫% শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল ও অংশগ্রহণ তহবিলে প্রদান এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ সংগঠন করার স্ব^াধীনতা নিশ্চিত করা।

৫) চা-শিল্পে নৈমিত্তিক ছুটি(বছরে ১০ দিন) কার্যকর ও অর্জিত ছুটি(প্রতি ২২ দিনে ১ দিন) প্রদানে বৈষম্যসহ শ্রম আইনের বৈষম্য নিরসন।

৬) ২০০৯ সালে নি¤œতম মজুরি বোর্ড কর্তৃক খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মী ও যোগালী সর্দারকে মাসিক বেতনধারী, ১ বিঘা জমি পর্যন্ত ক্ষেতে জমির জন্য রেশন কর্তন বন্ধ, প্রতি ২০ পরিবারে জন্য একটি টিউবওয়েল, কোম্পানীর লভ্যাংশ ৫% প্রদান, মাসিক মজুরির সমান উৎসব দুইটি উৎসব বোনাস(কর্মে উপস্থিতির উপর নির্ভর করে উৎসাহ বোনাস নয়), গ্রাচুয়েটি, শ্রমআইনের ৫৯ ধারা অনুযায়ী পায়খানা নির্মাণ ইত্যাদি সুবিধা বাস্তবায়ন এবং ক্ষেতের জমির জন্য রেশন কর্তন সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

৭) চা ও রাবার শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ রেশন হিসেবে একটি পরিবারের সাপ্তাহিক প্রয়োজনের অনুপাতে চাল, আটা, ডাল, তেল, চিনি/গুড, সাবান, চা-পাতা, কেরোসিন প্রদান।

৮) চা-বাগানে বসবাসকারী শ্রমিকদের ভোগদখলকৃত ভূমির উপর স্বত্ব অধিকার।

৯) সরকারি আইন মোতাবেক মাতৃত্বকালীন ভাতা ৬ মাস এবং প্রত্যেক চা বাগানে এম্বুলেন্স প্রদানসহ একজন এমবিবিএস ও একজন এমবিবিএস (প্রসুতি বিশেষঞ্জ ) ডাক্তার, প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ করে চা শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবনের জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ চা-শ্রমিক সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য সকল বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রতি ভ্যালীতে সরকারি কলেজিয়েট স্কুল স্থাপন।

১০) ভারতের বিনাশুল্কে বা কম শুল্কে চা রপ্তানি এবং শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্র ব্যবহারের প্রস্তাব গ্রহণ করা যাবে না। নোম্যান্স ল্যান্ডে ত্রিপুরা রাজ্যের চা-বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ আইনগতভাবে বন্ধ করার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

১১) অবিলম্বে শ্রীমঙ্গলে স্থায়ী শ্রম আদালত কার্যালয় স্থাপন এবং শ্রম আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনে ৯০ দিনের মধ্যে সকল মামলা নিষ্পত্তি করা।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।