Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, সোমবার ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শেরপুরের নকলায় ৭ একর জমিতে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক


১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০২:১৬  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


শেরপুরের নকলায় ৭ একর জমিতে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক

ঢাকা : ইকো পার্ক মানেই জীব বৈচিত্র আর পাখ-পাখালি ও গাছ-গছালি’র সমাহার। তবে একটু ব্যাতিক্রমি ইকো পার্ক গড়ে উঠেছে শেরপুরের নকলায়। প্রায় ৭ একর জমি’র উপর কেবল মাত্র ধূ ধূ ও উত্তপ্ত বালু জমিতে গড়ে উঠেছে এ ইকো পার্কটি।

যেখানে কোন রকমের গাছ-গাছালি তো দুরের কথা লতা-গুল্মও জন্মাতো না সেখানে কৃষি বিভাগের বিজ্ঞানীরা নানা কৌশল আর গবেষণা করে জন্মিয়েছে আম, জাম, লিচু, কলা, কাঁঠাল, পেঁপে, পেয়ারা, বরই, আতা, তাল, ছফেদাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতি’র ফলদ এবং বিভিন্ন ওষুধী ও বনজ প্রায় শতাধিক প্রজাতি’র আড়াই হাজার বৃক্ষ।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, জেলার নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের উরফা কোদাল দোয়া গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি ভোগাই ও কালা গাঙ্গ নদী।

২০০৯ সালে তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী ভোগাই নদীর উপর রাবার ড্যাম নির্মাণ এবং নদী’র নব্যতা বৃদ্ধির জন্য নদী খননের কাজ করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় নদী খননের বালু ভোগাই ও কালা গাঙ্গের মোহনার তীরে স্তুপাকারে রেখে দেয়। পরবর্তিতে ওই বালুর স্তুপের উপর প্রায় সাড়ে তিন একর জমিতে কেবল মাত্র স্থানীয় গ্রামবাসী’র জন্য ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করে জীব বৈচিত্র তৈরীর জন্য ইকো পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেন মতিয়া চৌধুরী।

এদিকে ছায়া ঘেরা ইকো পার্কের মনোরম পরিবেশ দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে বিভিন্ন পেশার মানুষ-জন। ইকো পার্কের তিন পাশ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় কোদাল দোয়া বাজার থেকে নৌকা করে নদী পার হয়ে পৌছতে হয় পার্কে।

স্থানীয়রা নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানালেও কৃষি বিভাগ জানায়, সাবেক কৃষি মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী’র ইচ্ছে এখানে বাাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কোন স্থাপনা তৈরী না করে একেবাড়েই প্রকৃতির মতো ন্যাচারাল ইকো পার্ক গড়ে উঠোক এটি। যাতে জীব বৈচিত্রের এবং পাখির অভয়াশ্রমের কোন সমস্য না হয়।

তবে ভবিষ্যতে পার্কে যাতায়াতের জন্য এখানে একটি ফুট ব্রীজ নির্মাাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন।

এদিকে ছায়া ঘেরা ইকো পার্কের মনোরম পরিবেশ দেখতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছে বিভিন্ন পেশার মানুষ-জন। ইকো পার্কের তিন পাশ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় কোদাল দোয়া বাজার থেকে নৌকা করে নদী পার হয়ে পৌছতে হয় পার্কে।

তবে ভবিষ্যতে পার্কে যাতায়াতের জন্য এখানে একটি ফুট ব্রীজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, ইকো পার্কে বৃক্ষ জন্মানোর অনেক চেষ্টা করেও ওই বালুর মধ্যে কোন গাছ জন্মাচ্ছিল না।

তাই আমরা অনেক গবেষণা করে বিশেষ কায়দায় মাটি থেকে ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি গভীর করে এবং গাছের চারার পারপাশে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি ফাঁক রেখে চারাগুলো রোপণ করার পর বালুর তাপ থেকে রক্ষা পেয়ে চারা গুলো বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায় ওই ইকো পার্কের সকল চারা সতেজ হয়ে উঠে এবং বর্তমানে বেশ বড় হয়ে উঠেছে। অনেক গাছে ফলও ধরতে শুরু করেছে। এ পদ্ধতি আমাদের কৃষি বিভাগের একটি সাফল্য হিসেবে আমি মনে করি। আশাকরি আগামি ৫ বছরের মধ্যে ইকো পার্কটি আরো সবুজ হয়ে উঠবে এবং এখানে দেশীয় নানা পাখ-পাখালি’র আবসস্থল হয়ে উঠবে। আর ফলদ বৃক্ষ থেকে এলাকাবাসী দেশীয় নানা ফল খেতে পাবে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।