Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ কার্তিক ১৪২৭, শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ভার্চুয়াল আলোচনায় মিললেন বাংলাদেশ-ভারতের সাহিত্যিকরা


১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ১২:৩০  এএম

ফারুক আহমেদ, কলকাতা

বহুমাত্রিক.কম


ভার্চুয়াল আলোচনায় মিললেন বাংলাদেশ-ভারতের সাহিত্যিকরা

আসানসোল গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগ ও `আইকিউএসি`র উদ্যোগে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক অনলাইন আলোচনা সভা। ‘ছন্দে-কথায় জীবনের রঙ-বেরঙ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনায় অংশ নিলেন ভারত ও বাংলাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিকেরা। প্রথম দিনে ছিলেন ভারতের কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত এবং শিশুসাহিত্যিক ও গবেষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান (বাংলাদেশ)।

কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত বক্তব্য রাখার সময়ে তুলে ধরেন, সাম্প্রতিক কালেও সাহিত্য পাঠ এবং সাহিত্য চর্চা যথেষ্ট গুণমানের হচ্ছে। পাঠককে ভালো লেখা খুঁজে নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার সাহিত্য চর্চা যেমন জানতে হবে, বইও পড়তে হবে।

খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, মৌখিক সাহিত্যের ঐতিহ্য থাকলেও বাংলায় লিখিত আধুনিক শিশুসাহিত্যের উন্মেষকাল ঊনবিংশ শতক। তিনটি ধাপে এর অগ্রযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। চিন্তাশক্তির প্রয়োগই বাংলা শিশুসাহিত্যকে এই অবস্থায় উন্নীত করেছে।

দ্বিতীয় দিনে কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, ভারতীয় লোককথা জীবনবোধে, কল্পনার বিচিত্র গতিতে, বাঁচার নানা রং ও রঙ্গে এক অসামান্য সৃষ্টি। সমাজ, কৃষিক্ষেত্র, সাধুর আশ্রম, চোরের বাড়ি থেকে স্বর্গ পর্যন্ত তার অবাধ গতি।

দ্বিতীয় দিনে কবি-প্রাবন্ধিক পাবলো শাহি (বাংলাদেশ) বলেন, বাঙালির জাতিসত্তা গঠনে বড় ভূমিকা মহাপ্রভু চৈতন্য , লালন ফকিরের। ভাষা নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন গৌড়েশ্বর আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। বাঙালির জাতিসত্তাকে কবিতায় ধারণ করেন জসীমউদদীন-নজরুল।

সবশেষে এই ওয়েবিনারের কার্যনির্বাহক সমিতির আহ্বায়ক ও আসানসোল গার্লস কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান নাফিসা পারভিন যে সমাপনী বক্তব্য রাখেন তা`ও ছিল অত্যন্ত সৌজন্যপূর্ণ। তিনি দু`দিনের আলোচনার মুখ্য আলোচক কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত (ভারত), শিশুসাহিত্যিক ও গবেষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান (বাংলাদেশ), কথাসাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় (ভারত) ও কবি, প্রাবন্ধিক পাবলো শাহি (বাংলাদেশ)-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

আয়োজনের সাফল্যের জন্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ড. সন্দীপ কুমার ঘটক, আই.কিউ.এ.সি. সমন্বয়ক ও সহযোগী পৃষ্ঠপোষক ড. শ্যামল শেঠ, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যা ড. শাশ্বতী মজুমদার (বাংলা বিভাগ), ড. আভা মল্লিক (বাংলা বিভাগ), রোহিণী কর (ইতিহাস বিভাগ), ড. মধুমিতা জমিদার (দর্শন বিভাগ), কার্যকরী সদস্য ডক্টর মাল্যবান চট্টোপাধ্যায় (ইতিহাস বিভাগ), আল্পনা বন্দ্যোপাধ্যায় (বাংলা বিভাগ),দেব আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (বাংলা বিভাগ), ভূতনাথ চ্যাটার্জী (বাংলা বিভাগ)- কে ধন্যবাদ জানান।

যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছাড়া এই আলোচনা কিছুতেই সবার কাছে পৌঁছোতে পারত না সেই প্রাযুক্তিক সহায়তা দানকারী ড. সুরজিৎ জানা (রসায়ন বিভাগ), ড. প্রদীপ ঘাঁটী (কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ) ও শুভাশীষ ঘোষ (কম্পিউটার অ্যাপলিকেশন বিভাগ) -কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। যে ছাত্রীরা আন্তরিক চেষ্টা ও শ্রমের মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটাকে সফল করে তুলেছে তাদের নামোল্লেখও তিনি করেন। সবশেষে আবারও সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এই দ্বি-দিবসীয় আন্তর্জাতিক-আন্তর্জালিক আলোচনাসভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।