Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ মাঘ ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার


০১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার, ১০:১২  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

ঢাকা : ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘শনিবার রাতে শ্রম অধিদফতরে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে চলমান নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।’

আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের (শনিবার) সভায় মূল দাবিটি ছিল খাদ্যভাতা। সভায় মালিকদের আগামী মার্চের মধ্যে খাদ্যভাতা দেয়ার আশ্বাসে শ্রমিক নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন। অন্যান্য দাবিগুলোর বিষয়ে গত বুধবারের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।’

শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক একে এম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, মালিক প্রতিনিধিসহ অন্যান্য শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদাবাজি বন্ধ, বর্ধিত বেতন, খাদ্যভাতা দেয়াসহ ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার মধ্যরাত (১২টার পর) থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দেয় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

এর আগে গত বুধবার সচিবালয়ে ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেবেন মালিক। এটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না তা তদারকি করবে নৌপরিবহন অধিদফতর।

বৈঠকে নৌপরিবহন শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠনের বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালককে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে যা আছে

১. বাল্কহেডসহ সকল নৌযানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ। ২০১৬ সালের ঘোষিত গেজেট মোতাবেক কেরানি, কেবিনবয় ও ইলেকট্রিশিয়ানসহ সব নৌযান শ্রমিককে বেতন প্রদান।

২. ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাশ প্রদান ও হয়রানি বন্ধ। সকল নৌযান শ্রমিককে খাদ্যভাতা প্রদান। এনড্রোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ। কর্মস্থল ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ।

৩. নৌযান শ্রমিককে মালিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দিতে হবে। নৌযান শ্রমিককে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নদীর নাব্যতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন। মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিরতণ, সনদ নবায়ন, পরিদর্শনসহ নৌপরিবহন অধিদফতরের সকল প্রকার অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ। চট্টগ্রাম, মংলা, পায়রা বন্দরে আউটারে চলাচলকারী শ্রমিকদের সি-এলাউন্স দিতে হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।