Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ ভাদ্র ১৪২৬, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ঈদ ছুটিতে লাউয়াছড়া-মাধবপুরে পর্যটকদের ভিড়


০৮ জুন ২০১৯ শনিবার, ১০:০৪  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ঈদ ছুটিতে লাউয়াছড়া-মাধবপুরে পর্যটকদের ভিড়

মৌলভীবাজার: ইট দালানের বাইরে প্রকৃতির একটু ছোয়া পেতে ঈদের একটু ছুটি পেয়ে বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান মাধবপুর লেকসহ পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষ্যনীয়। ঈদের দিন ও পরের দিন দুই দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দুই সহস্রাধিক পর্যটকের উপস্থিতি ঘটে। তবে অত্যধিক পর্যটকের কারনে হুমকির মুখে বিলুপ্তপ্রায় বণ্যপ্রাণির আবাসস্থল লাউয়াছড়া উদ্যান।

নানা প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেও পর্যটকরা এই উদ্যানে বিচরন করেন। এই উপজেলার নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র সমুহে দর্শনার্থীর সে রকম উপস্থিতি না হলেও লাউয়াছড়া মিশ্র চিরহরিৎ বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় বিশেষত ছুটির সময়ে অত্যধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। সেই সাথে যানবাহনের হুড়োহুড়ি, হাল্লা চিৎকার ও লোকে লোকারন্য হয়ে উঠে। এর পাশাপাশি গাছ চুরি, বনবিভাগের জনবল স্বল্পতা, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট সব মিলিয়ে উদ্যানের বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠিত।

কমলগঞ্জের উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলো হলো বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রভাত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, ঐতিহ্যবাহী লক্ষীনারায়ন দিঘী, দু’শ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘী, শমশেরনগর চা বাগানের বাঘীছড়া লেক, আলীনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, অপরূপ শোভামন্ডিত উঁচু নিচু পাহাড় বেস্টিত সারিবদ্ধ চা বাগানসহ বাংলাদেশের বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরী সম্প্রদায় এলাকা। তাছাড়া প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া নৃ-গোষ্ঠীসহ গারো, সাঁওতাল, মুসলিম (পাঙাল) মণিপুরী, ত্রিপুরীদের আবাসস্থল রয়েছে এই উপজেলায়। এসব কেন্দ্রগুলোর সাথে এখানকার জীববৈচিত্র্য উপভোগ করতে এসেছেন হাজার হাজার দেশী বিদেশী পর্যটক।

নাগরিক জীবনের শতব্যস্ততার মধ্যে একটু ছুটি মিললেই শহরবাসীরা অনেকেই ছুটে কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। শুক্রবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা নারী ফারহানা আক্তার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাকুরিজীবি ফয়সল আহমদ বলেন বছরের একটি দিন পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে তুলে। এজন্য এ বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এখানে ছুটে আসা।

লাউয়ছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টির মাঝেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এসেছেন বন বিভাগ ও সহব্যস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে পর্যটকদের যে কোন সমস্যা নজরদারিতে রেখেছেন। এখন পর্যন্ত পর্যটকদের কাছ থেকে কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গলের ভাঙ্গাচোরা সড়কের কারণে পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে ট্যুরিষ্ট পুলিশ। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বৃষ্টির মাঝেও দেশী বিদেশী তেরশ’ পর্যটকের উপস্থিতি ছিল। তাদের প্রবেশ মূল্য থেকে রাজস্ব আয় হয় ৬৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার দু’হাজার পাঁচ শ’ পর্যটেকর উপস্থিতি ছিল। এ দিন রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

মাধবপুর চা বাগান লেকে ও চা বাগানের উঁচু টিলায় উঠে নিচের লেক ও আর লেকের বেগুন পদ্মের সাথে বেগুনি পানি অবলোকন করতেও পর্যটকদের উপছেপড়া ভিড় ছিল। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ ও আর্কাইভ দেখতে পর্যটকদের ছুটাছুটি ছিল।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ, লেখক আহমদ সিরাজসহ স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত একটি বনে অধিক পরিমাণে পর্যটক বন্যপ্রাণির অবাধ চলাচল, খাবার ও আবাসস্থলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবে। এটি রোধ করা প্রয়োজন।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় সহকারী বনকর্মকর্তা আনিসুর রহমান অত্যধিক পর্যটকের কারনে বন্যপ্রাণির বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত লোক আসলে নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব লোকবল রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া ঈদে তারা নিজেরাও তদারকি করেন। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।