Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ঈদে লাউয়াছড়ায় অতিরিক্ত পর্যটক: প্রকৃতির সুরক্ষা নিয়ে উৎকন্ঠা


০৩ জুন ২০১৯ সোমবার, ০৫:১৬  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ঈদে লাউয়াছড়ায় অতিরিক্ত পর্যটক: প্রকৃতির সুরক্ষা নিয়ে উৎকন্ঠা

মৌলভীবাজার: পর্যটন সমৃদ্ধ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও এ উপজেলায় হামহাম জলপ্রপাত, মাধবকুন্ড চা বাগান লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, চা বাগানসহ নানা পর্যটন সমৃদ্ধ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তবে অত্যধিক পর্যটকের কারণে হুমকির মুখে বিলুপ্তপ্রায় বণ্যপ্রাণির আবাসস্থল লাউয়াছড়া উদ্যান।

নানা প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেও পর্যটকরা এই উদ্যানে বিচরণ করেন। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত সহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র সমুহে দর্শনার্থীর সে রকম উপস্থিতি না হলেও লাউয়াছড়া মিশ্র চিরহরিৎ এই বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করায় বিশেষত ছুটির সময়ে অত্যধিক পরিমাণে পর্যটকের আগমন ঘটছে। সেই সাথে যানবাহনের হুড়োহুড়ি, চিৎকার ও লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। এর পাশাপাশি গাছ চুরি, বনবিভাগের জনবল স্বল্পতা, শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি, খাবার ও নিরাপদ বাসস্থান সংকট সব মিলিয়ে উদ্যানের বন্যপ্রাণি, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সুরক্ষা নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠিত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে লাউয়াছড়াকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর থেকে সেখানে পর্যটকদের ঢল নামছে। বনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলতে রেস্টহাউস, নিসর্গ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় লাউয়াছড়ায় কয়েকটি ইকো-কটেজ, স্টুডেন্ট ডরমিটরি, ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে প্রকৃতি সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃতি ব্যাখ্যা কেন্দ্র স্থাপনের ফলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উদ্যানের গাঁ ঘেষে বনজঙ্গল ও মাটি কেটে স্থাপিত হচ্ছে বিভিন্ন কর্টেজ। বনের ভেতরে দল বেঁধে মানুষের অবাধ বিচরন বন্যপ্রাণীর জন্য খাবার সংগ্রহ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিভিন্ন কর্মকান্ডে বন্যপ্রাণীর খাবার ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে খাবারের সন্ধানে জঙ্গলের দূর্লভ প্রাণীগুলো জনপদে ছুটে এসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের হাতে ধরা পড়ে অথবা গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে।

লাউয়াছড়ায় আগত পর্যটকরা জানান, সারা বছর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদ কিংবা অন্য কোন ছুটি পেলে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। তবে এই বনে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ ও বন্যপ্রাণি দেখতে ও উপভোগ করতে এখানে আগ্রহ বেশি।

মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সৈয়দ মহসিন পারভেজ, লেখক আহমদ সিরাজসহ স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, সংরক্ষিত একটি বনে অধিক পরিমাণে পর্যটক বন্যপ্রাণির অবাধ চলাচল, খাবার ও আবাসস্থলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবে। এটি রোধ করা প্রয়োজন।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় সহকারী বনকর্মকর্তা আনিসুর রহমান অত্যধিক পর্যটকের কারনে বন্যপ্রাণির বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত লোক আসলে নিয়ন্ত্রণে তাদের নিজস্ব লোকবল রয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে পর্যটকদের যেতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া ঈদে তারা নিজেরাও তদারকি করেন। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত ট্যুরিজমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।