Bahumatrik Logo
২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩, শনিবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ৩:১১ পূর্বাহ্ণ

অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ


১২ জুন ২০১৬ রবিবার, ১১:৫৩  পিএম

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল : ভর্তির ফলাফল ঘোষণার পূর্বেই বরিশালের আগৈলঝাড়ায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখায় ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিনা রশিদে ভর্তি বাবদ প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।

কলেজ সূত্র জানায়, প্রতিবছর ওই কলেজের একাদশ শ্রেণীতে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। এবছর কলেজ অধ্যক্ষ এসএম হেমায়েত উদ্দিন ও বিএম শাখার বিভাগীয় প্রধান অধ্যক্ষের স্ত্রী সাফিনা হাসিন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর ৭২ শিক্ষার্থীকে ভর্তির নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের নিকট থেকে বোর্ড ফি বাবদ ২১শ’ টাকা এবং কলেজ ভর্তি ফি বাবদ ৩শ’ ৭০টাকাসহ মোট ২৪শ’ ৭০ টাকা করে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮শ’৪০ টাকা বিনা রশিদে রেখে দেন।

এরপর শিক্ষক দম্পত্তি ওই ৭২ শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের পছন্দে শুধুমাত্র ওই কলেজের নাম দিয়ে এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদন করেন। এতে করে ওই ৭২ শিক্ষার্থীই আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রী কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। এ কাজটি করেন অধ্যক্ষের আজ্ঞাবহ কয়েকজন প্রভাষক। তারা আগৈলঝাড়ার একটি কম্পিউটার সেন্টার থেকে পরপর ৭২ শিক্ষার্থীর এসএমএস পাঠান। সেখানে পছন্দের তালিকায় একটি কলেজই প্রাধান্য পায়। প্রতিটি এসএমএস বাবদ তারা ২২০ টাকা করে ১৫ হাজার ৮শ’৪০ টাকা প্রদান করেন।

এদিকে টাকা জমা দেয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রশিদের জন্য একাধিকবার কলেজে গেলেও পরে দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থী ভর্তির ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশের আগে শিক্ষাবার্ড ছাড়া কোন কলেজ অধ্যক্ষ তার কলেজে কতজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে তা জানার কথা নয়। কিন্তু আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেমায়েতউদ্দিন ৭২ শিক্ষার্থীর আবেদনের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভর্তির জন্য টাকা রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ সুযোগ না পেলে টাকা ফেরৎ দেয়া হবে। এদিকে আরও অন্তত: ১৫জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ওই পরিমাণ টাকা নিলেও আবেদনের শেষ দিনে তাদের আবেদন করতে পারেনি। তাদের বলা হয়েছে, বোর্ড সময় বাড়ালে তাদের ভর্তি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই কলেজের বিএম শাখার একাধিক প্রভাষক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেমায়েত উদ্দিনের স্ত্রী সাফিনা হাসিন উজিরপুরের হাবিবপুর কলেজে কর্মরত ছিলেন। অধ্যক্ষ ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার সুবাদে হাবিবপুর থেকে তার স্ত্রীকে ওই কলেজে যোগদান করান।

অনেক সিনিয়র শিক্ষকদের অগ্রাহ্য করে সাফিনা হাসিনকে কলেজের বিএম শাখার বিভাগীয় প্রধানও করা হয়। আগামী ১৯ জুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হেমায়েত উদ্দিনের অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। হেমায়েত উদ্দিনের ০১৭১৪-৪৪৫৫৫৭ ও তার স্ত্রী হাসিনা সাফিন-০১৭১৪-৪১৭০৪৪ মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বারবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ