Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১১ আষাঢ় ১৪২৫, সোমবার ২৫ জুন ২০১৮, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

কোমল পানীয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক : বাড়ছে উদ্বেগ


০২ জুন ২০১৮ শনিবার, ০২:২০  এএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


কোমল পানীয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক : বাড়ছে উদ্বেগ
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় ‘এনার্জি ড্রিঙ্কসে ভায়াগ্রা’, ‘সফট ড্রিঙ্কসে কীটনাশক’ কিংবা এসবে ক্ষতিকর রাসায়নিক ইত্যাদি বিভিন্ন শিরোনামে প্রায়শই ভয়াবহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকে। সেসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আবার পরের দিন একই পত্র-পত্রিকায় সম্পাদকীয় কলামে বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়ে থাকে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য এতটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ যে, এটাকে নিয়ে নিয়মিত পত্র-পত্রিকায় লিখে জনসচেতনতা গড়ে তোলা উচিত। পরীক্ষায় পাওয়া ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে- ভায়াগ্রা, ক্যাফেইন, ইথানল, সোডিয়াম বেনজোয়েট, বিষাক্ত স্যাকারিন ও অ্যালকোহল ইত্যাদি।

তাছাড়া ক্ষতিকর কীটনাশক কিংবা গাড়ির পোড়া এবং পরিত্যক্ত মবিলকে নাকি প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা রীতিমত ভয়াবহ। এগুলোর ভয়াবহতা সম্পর্কে পুষ্টিবিজ্ঞানীগণও তাঁদের উদ্বেগজনক মতামত ব্যক্ত করেছেন। এসব বিয়য়ে চলছে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা, প্রকাশিত হচ্ছে সমীক্ষা প্রতিবেদন, এতে উঠে আসছে ভয়াবহ চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত এনার্জি ড্রিঙ্কসে মানুষের ক্ষুধা নষ্ট করে ও কিডনির ক্ষতি করে। ভায়াগ্রা হলো একটি যৌন উত্তেজক রাসায়নিক উপাদান। ভায়াগ্রার রাসায়নিক উপাদান হলো সিলডেনাফিল সাইট্রেট।

সম্প্রতি এগুলো নিয়ে অভিযান চালানোর অংশ হিসাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আিধদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। শুধু তাই নয় এখন পবিত্র রমজান মাস চলমান। রমজানের সাথে সারাদিন রোজা রাখার পর কিছু কোমল পানীয় পানের সম্পর্ক রয়েছে। আর খালিপেটে পান করার জন্য যেসব কৃত্রিম পানীয় পান করা হয় সেগুলো যদি ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত হয় তা পেটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শরবত, মিনারেল ওয়াটার, আয়ুর্বেদিক শরবত ইত্যাদি বিভিন্ন নামে যেসকল কোমল পানীয় বাজারে কিনতে পাওয়া যায় সেগুলোর উপর ভরসা করা কঠিন। কারণ দেখা গেছে অনেক বড় বড় শপিংমল কিংবা দোকানে যখন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে তখন সেসব স্থানে ধরা পড়ছে সকল দু-নম্বরি কাজ কারবার।

আবার অনেকে যেমন শত্রুতাবশত একে অপরের ক্ষতির জন্য রাসায়নিকের অপব্যবহার করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত রাতারগুল বিল দেশের একমাত্র মিঠাপানির বন (সোয়াম্প ফরেস্ট) যা ১৯৭৩ সালে সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে হাওর বেষ্টিত এ বনের আয়তন ৫০৪ দশমিক ৫০ একর। সেখানে খইয়ার খালে সম্প্রতি দুবৃত্তদের দ্বারা ক্ষতিকর বিষ প্রয়োগে জলজ মাছ, সাপ, ব্যাঙ, গুইসাপসহ হাজারো অনুজীবের মুত্যু হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে সুন্দরবনের পাশের নদীতে তেলের ট্যাংকার দুর্ঘটনায় পরিবেশ বিপর্যয় হয়েছে। এভাবে প্রাকৃতিক জলাধারগুলোতে যখন রাসায়নিকের অনুপ্রবেশ ঘটে তখন সেটি নিশ্চিতভাবে খাদ্য শৃংখলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ ঘটে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

মানুষ যে এখন নিজের একটু ব্যক্তিগত লাভের কারণে গোটা বিশ্বের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দ্বিধা করছে না। একটু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেই এবং খালি চোখে নজর দিলেই তা সকলের কাছেই সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এখন দেশে মধু মাস শুরু হয়েছে। কারণ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলের মৌসুম চলছে এখন। কিন্তু তারপরও নিশ্চিন্তে ভোক্তগণ সেসব ফল বাজার থেকে নির্বিঘ্নে কিনে খেতে পারছে না। তাদের মনের ভিতর একটি অজানা ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করে সব সময়। এই বৃুঝি কোন না কোন ক্ষতিকর রাসায়নিরে কবলে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। এর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেখা গেছে আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আপেল, কমলা, অাঙুর, মাল্টা, পেয়ারা ইত্যাদি প্রতিটি ফলেই মেশানো হচ্ছে দেদার রাসায়নিক। একেবারে ক্রেতাদের চোখের সামনেই ঘটছে এসব অনৈতিক কাজ। আর এগুলো যে শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তাই নয় এগুলো দিনে দিনে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে চলেছে নিরন্তর। এভাবে চলতে থাকলে কারোরই রেহাই নেই।

কাজেই এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে শুধু সরকার কিংবা সরকার পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। প্রয়োজনে ভোক্তা এবং একজন সচেতন মানুষ হিসেবে যে যার জায়গা থেকে প্রতিবাদী হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ নিজের জীবনতো নিজেরই। একে রক্ষা করার সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নিজের। সরকারের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। সেজন্য আসুন আমরাই আমাদের বাড়ির পাশে থেকেই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং এসব অনাচার আর হতে না দেই। তাহলেই দেখা যাবে একসময় এসব বন্ধ করতে বাদ্য হচ্ছে দুস্কৃতিকারী ব্যবসায়ী ও অধিক মুনাফালোভীরা।

লেখক : কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

email: [email protected] 

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।