Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

ঐতিহাসিক কুরুমবেড়া দুর্গ  


১৬ জুন ২০১৮ শনিবার, ০১:১৩  এএম

অনিন্দ্য দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর (পশ্চিমবঙ্গ) ঘুরে এসে

বহুমাত্রিক.কম


ঐতিহাসিক কুরুমবেড়া দুর্গ   
ছবি : লেখক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর মহকুমার কেশিয়াড়ি থেকে বেলদা রাস্তার ডানপাশে পড়ে কুবাই নামক স্থান। সেখান থেকে হাঁটা পথে বা রিকশাযোগে পৌঁছাতে হয় গগনেশ্বর গ্রামে।

সর্ব ধর্ম সমন্বয়য়ের মিলনক্ষেত্র এই গ্রামের একটি বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। নানা কারণে গগনেশ্বর গ্রামটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। একদা তসর শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ এই গ্রামটিতে একটি পুরনো বিশাল দুর্গ আছে। এই প্রকাণ্ড দুর্গটি মাকড়া পাথরের বিরাট এক স্থাপত্যসৌধ।

প্রায় ১২ ফুট(৩.৬মি) উচ্চতা বিশিষ্ট ও ৩ ফুট (০.৯মি) চওড়া ঝামা পাথরের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা আয়তকার এই দুর্গের প্রধান প্রবেশ পথ উত্তরমুখি। প্রাচীরের মধ্যে প্রশস্ত সমতল চত্বর। প্রাঙ্গনের পূর্বদিকে আছে একটি সপ্তরথ মন্দিরের ভগ্নাশেষ এবং পশ্চিমদিকে একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ।

এলাকাটি গগনেশ্বর নামেই অধিক পরিচিত। দেবতার নামেই গ্রামের নামকরণ, মুঘল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমলের রাজস্ব বিভাগের সরকার জলেশ্বরের অন্তর্গত মহাল “গাগনাপুর”। কথিত আছে উড়িষ্যাধিপতি রাজা কপিলেশ্বর কত্রিক প্রথমে এখানে মন্দির নির্মিত হয়েছিল।

রাজা কপিলেশ্বর দেব কত্রিক শিব মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বহুবছর ধরে এটি হিন্দুদের একটি পূর্ণ স্থান রুপে প্রচলিত ছিল। অতএব অনুমান করা যায় মন্দিরটির নির্মাণ কাল সম্ভবত খ্রিষ্টীয় পনেরো শতকে এবং মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিব বিগ্রহটির নাম ছিল কপিলেশ্বর। পরবর্তীকালে মোঘল ও পরে মারাঠারা এটিকে সেনানিবাস অথবা ছাউনি হিসাবে ব্যাবহার করায়, সাধারণ মানুষের কাছে এটি শেষ পর্যন্ত “কুরুমবেড়া” বা “করমবেড়া” দুর্গ হিসাবেই পরিচিত হয়।

এই দুর্গের ভেতরে অবস্থিত তিন গম্বুজ মসজিদের দেওয়ালে ওড়িয়া ভাষায় যে শিলালিপিটি খদিত আছে তা থেকে জানা জায়, মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে কোন এক মহম্মদ তাহির ১১০২ হিজরিতে অর্থাৎ ১৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন, সুতরাং এ থেকেই মনে হয় ঐ সময়েই প্রাঙ্গনের ভেতরের মন্দিরটি বিনষ্ট হয় এবং এটি মোঘলদের সেনা নিবাসে পরিনত হয়।

পরে আঠারো শতকের প্রথমদিকে উড়িষ্যায় মারাঠাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ফলে দুর্গটি তাদের হস্তগত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে তারাও এটিকে অন্যতম দুর্গ রুপে ব্যাবহার করে। বর্তমানে এটি ‘আরকিওলজ্যিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক সংরক্ষিত এবং পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত একটি পর্যটন কেন্দ্র।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।