Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ২৬ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ভয়ে ক্যাটারিং কার্টে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ১১ আগস্ট ২০২৬

প্রিন্ট:

ইরানের ভয়ে ক্যাটারিং কার্টে লুকিয়েছিলেন ট্রাম্প

ফাইল ছবি

গত মাসে তুরষ্ক থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি সামরিক বিমানে করে দেশে ফেরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস তখন এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে প্রেসিডেন্টের ফেরার কথা জানালেও মূলত একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাকে গোপন সামরিক বিমানে তোলা হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব নেতাদের নিয়ে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর এই ব্যতিক্রমী নিরাপত্তা কৌশলী অভিযান পরিচালনা করা হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প বড় আকারের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিট পর তাকে অত্যন্ত সুকৌশলে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয়, যা সাধারণত বিমানের খাবার ও রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। এই ট্রাকের মাধ্যমেই তাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি সামরিক বিমানে গোপনে স্থানান্তর করা হয়। প্রেসিডেন্টের প্রকৃত অবস্থান গণমাধ্যম, এমনকি হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর কাছ থেকেও সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। ইরানের তরফ থেকে আসা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণেই এই বিশেষ ‘ডিসেপশন অপারেশন’ বা ধোঁকাবাজি অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই তুরষ্ক ছেড়ে আসার সময় ট্রাম্প জানান যে তিনি কাতার কর্তৃক উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪-৮ জেটের পরিবর্তে পুরনো একটি এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। ন্যাটোর ওই সফরেই নতুন বিমানটি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যবহার করা হয়। তুরস্কের সীমান্তবর্তী দেশ ইরান হওয়ায় ট্রাম্প ঝুঁকিতে ছিলেন।আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, পুরনো বিমানটি তিনি ‘পুরনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ ব্যবহার করবেন। ক্যামেরার সামনে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার পর তাকে গোপনে একটি ছোট এয়ার ফোর্স সি-৩২এ বিমানে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি ট্রাম্পের সাথে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু স্টাফও জানতেন প্রেসিডেন্ট সেই পুরনো বিমানটিতেই আছেন। ফ্লাইটের সময় সাংবাদিকদের বিমানের উইন্ডো শেড বা জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, আপনারা হয়তো একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন, তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন, তাই না? পরবর্তীতে সি-৩২এ বিমানটি বৃটেনে পৌঁছে এবং স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছান। তবে ছোট বিমানটি থেকে ট্রাম্পকে কীভাবে পুনরায় পুরনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। পরে তাকে পুরনো বিমানটির সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভ চ্যুং এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার অনেক শত্রুর নজর প্রেসিডেন্টের ওপর রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকি।

Walton
Walton