ফাইল ছবি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ৬ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি বাসিন্দা কিয়েভ শহরের, আর বাকিরা শহরতলি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তারা জানান শনিবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ৬০০ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে মস্কো। এসব হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।
কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় ভোররাতেই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে দমকল ও জরুরি সেবা কর্মীরা ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, তারা ৫৫৮টি ড্রোন ও ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
২০২২ সালে যুদ্ধের শুরু থেকেই কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে। শীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা করায় প্রবল ভোগান্তিতে পড়ে বাসিন্দারা। এ সপ্তাহে কিয়েভের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে তীব্র ভোগান্তিতে পড়বে বাসিন্দারা।
হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন। সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত খসড়া শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার কথা রয়েছে। প্রথমদিকে রাশিয়াপন্থী বলে সমালোচিত এই প্রস্তাবটি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংশোধিত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও বলেন, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী মস্কো-দাবিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে সরে গেলে তবেই রাশিয়া আক্রমণ বন্ধ করবে। বর্তমানে রুশ সেনারা পূর্ব ডনবাসের বেশিরভাগ অংশ ও দক্ষিণের জাপোরিঝঝিয়া এবং খেরসনের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আগামী সপ্তাহের প্রথমার্ধে এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ একটি প্রতিনিধি দল মস্কো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।




