ছবি: সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও হড়কা বন্যায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) জরুরি অবস্থা জারি করেন
শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থা বিভাগের (ডিএমসি) বরাতে এএফপি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র প্রভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া আরও ১৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। এর ফলে ভূমিধস ও হড়কা বন্যার ঘটনা ঘটে। এতে মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকেই নিখোঁজ হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা জানান, ৪০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।
এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়ানক করে তোলে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ। গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে দ্বীপদেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড়টি। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ শনিবার ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ শ্রীলঙ্কা থেকে সরে এসে উত্তরে প্রতিবেশী ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু এর আগে দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এটি।
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার কোনো কোনো এলাকায় ৩০০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার জেরে আবারও ভূমিধস ও হড়কা বানের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের (ডিএমসি) মহাপরিচালক সম্পথ কোতুওয়েগোদা জানান, ‘আমরা ১৩২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি এবং আরও ১৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।’ এই কর্মকর্তা আরও জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার পানি শহরগুলোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিচ্ছে। ডিএমসি শুক্রবার জানায়, বহু মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন। তাদের উদ্ধারের কাজ চলছে। তবে প্রত্যন্ত জায়গাগুলোতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছোতে পারছে না।




