Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

ভাদ্র ২৫ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে এজেন্ডা :দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৭:২৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিন্ট:

তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে এজেন্ডা :দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যেতে আগ্রহী। তবে এ ধরনের সফরের পর দেশে ফিরে জনগণের সামনে উপস্থাপনের মতো কী কী অর্জন ও সুনির্দিষ্ট সাফল্য থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বুধবার দ্য হিন্দুকে এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারতের আমন্ত্রণে বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান হয়তো অংশ নেননি, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক অবদান ও ত্যাগ স্বীকার করা নিকটতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারতকে তিনি এড়িয়ে চলতে চাইছেন।ওই কূটনৈতিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানেন যে, আগামী নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোয় তাকে নয়াদিল্লি সফর করতে হতে পারে। কারণ গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত নবায়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামী ডিসেম্বরের শেষে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় বৈঠকের মাধ্যমে সফরের এজেন্ডা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। ঢাকার ধারণা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন একটি ‘চলমান অর্জন’ হতে পারে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, উদাহরণ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আরোপ করা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থলবন্দরগুলোর ব্যবহার এবং পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করা- এসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভারত ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত সহায়তা করতে পারলে সেটি আস্থা তৈরির একটি পদক্ষেপ হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার বিষয়গুলোকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো কঠিন রাজনৈতিক ইস্যু থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করছে।

এই কূটনৈতিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির একটি সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলেও এটি কার্যকর ছিল।

তিনি বলেন, বছরের শেষ হওয়ার আগে এই চুক্তি নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হবে উল্টো ফলদায়ক। কারণ ইতোমধ্যে ভারতে জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউয়ের সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝার মতো কেউ কেউ চুক্তিটির নবায়নের বিরোধিতা শুরু করেছেন। তাদের দাবি, এই চুক্তি বিহারকে কোনো সুবিধা দেয় না।তার মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তার পূর্ণ সম্ভাবনায় ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তিনি বলেন, শুধু তখনই তারেক রহমান দিল্লি থেকে দেশে ফিরে উল্লেখযোগ্য অর্জন সঙ্গে নিয়ে ফিরতে পারবেন। ওই কর্মকর্তা জানান, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেছেন। তবে তারেক রহমানের সফরের এজেন্ডা তৈরির জন্য আমলাদের পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সফরের এজেন্ডা তৈরির বিষয়ে আমরা মুক্তমনা। কিছু বিষয়ে আমাদের অবস্থান শিথিল করার সুযোগ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে আমরা চাই সম্পর্ক এগিয়ে যাক।দ্য হিন্দুকে ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ আশা করে ভারত বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে যে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অভিযোগগুলো যৌক্তিক নয়, কারণ তারেক রহমান একজন নির্বাচিত নেতা।

তিনি বলেন, তবে আমরা সন্তুষ্ট যে, শেখ হাসিনার দলের সদস্য ও তার সমর্থকদের অংশগ্রহণে নতুন করে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ ভারত বন্ধ করে দিয়েছে। এটি ভারতের পক্ষ থেকে একটি গঠনমূলক বার্তা এবং আমরা বিষয়টি লক্ষ্য করেছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা মনে করেন, ২০১৮ সালে ভারত লর্ড আলেকজান্ডার কার্লাইলকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তিনি তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

লর্ড কার্লাইলের শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। সে সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেক এর প্রধান হিসেবে দিল্লিতে ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এই সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমলাদের পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব বা এফসিসিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনার বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে এবং ওই অনুষ্ঠানের ঘটনায় “ক্ষোভ” প্রকাশ করে।

Walton
Walton